‘অপারেশন সুন্দরবন’ প্রেক্ষাগৃহে ২৩ সেপ্টেম্বর

বিশ্ব ঐতিহ্য ও সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত করার প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’ বিনা কর্তনে সেন্সর বোর্ড সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তির ছাড়পত্র পেয়েছে। গেল সপ্তাহে ছবিটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া হলে ১১ সেপ্টেম্বর ছবিটিকে ছাড়পত্র দেয় কর্তৃপক্ষ। এমনটাই জানিয়েছেন সিনেমার পরিচালক দীপংকর দীপন। তিনি জানান, ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যরে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমাটি বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পেয়েছে। সেই সঙ্গে বোর্ড সদস্যদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। সদ্য সেন্সর পেলেও ছবিটি মুক্তির তারিখ আগেই ঘোষণা হয়েছে। এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। পরিচালক দীপংকর দীপন জানান, অপারেশন সুন্দরবন পুরোপুরি মূল ধারার সিনেমা। এখানে অ্যাকশন, সাসপেন্স, আবেগ, প্রেম, গান সবই আছে। তবে সেটা অথেনটিকভাবে এসেছে, সিনেমাটিক স্টাইলাইজেশন দিয়ে। গণমানুষকে যোগাযোগ করার সিনেমা এটি। সেই সঙ্গে সব শ্রেণির দর্শক যাতে পছন্দ করে সেই চেষ্টাও ছিল। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ার গল্প নিয়ে নয়, ‘অপারেশন সুন্দরবন’ তৈরি হয়েছে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়াকে উদযাপন করতে। এটি কোনো ডকুমেন্টারি নয়, এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সিনেমা; যেখানে ড্রামা-সাসপেন্স-নারী পুরুষের সম্পর্ক, প্রেম-ভালোবাসা সব আছে। সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে র‌্যাব ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও থ্রি হুইলারস এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এই সিনেমার পোস্টার উন্মোচিত হয়। এই অনুষ্ঠানে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে এসে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ দেখার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা। সেদিন ‘অপারেশন সুন্দরবন’র ট্রেলারের প্রশংসা করেন মঞ্চ আর টেলিভিশনের একসময়ের দাপুটে অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, ‘বিশ্বমানের ট্রেলার মনে হয়েছে। ইদানীং দেশের সিনেমার পালে বাতাস লেগেছে। এই সিনেমা ঝড়ো হাওয়া এনে দেবে।’ অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া এই সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘এই ছবির শ্যুটিংয়ে যখন আমরা গভীর সুন্দরবনে ইউনিট ফেলি, তখন কোনো নেটওয়ার্ক ছিল না ফোনে। টানা ৩৫ দিন আমরা বিচ্ছিন্ন ছিলাম যোগাযোগ থেকে।’ চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ বলেছিলেন, ‘ আমাদের অনেক দিনের পরিশ্রমের ফল হচ্ছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমা। আমরা যথেষ্ট সময় নিয়ে সিনেমার কাজ করেছি। আর সবচেয়ে বড় কথা যেখানে আমরা শ্যুটিং করেছি অর্থাৎ সুন্দরবন সেখানে আগে শ্যুটিং করার কোনো রেফারেন্স ও অভিজ্ঞতা ছিল না আমাদের। যেখানে দাঁড়িয়ে থাকাটা কষ্টের ছিল কেননা কিছু জায়গার মাটি দেবে যায় নিচের দিকে সেখানে আসল অফিশিয়াল ডেকোরাম মেইনটেন করে আসল বুট ও আর্মস নিয়ে অ্যাকশন সিকোয়েন্স কনটিনিউ করা খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। সুন্দরবনকে আমরা আমাদের সিনেমায় ভিন্নভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছি।’ এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, তাসকিন রহমান, মনোজ প্রামাণিক, মনির খান শিমুল, দীপু ইমাম, এহসানুর রহমান, তানজিল তুহিন ও সামিনা বাশার।