জমি অনাবাদি না রেখে ও মানুষকে কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সভার সভাপতিত্ব করেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক হয়। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যচাহিদা মেটাতে আরও বেশি করে ফসল ফলাতে হবে। আমাদের মাটি উর্বর। নিজেদেরই আরও বেশি করে ফসল ফলাতে হবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের ফসল উৎপাদনে জোর দিতে হবে। দেশের মাটি ও মানুষকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীর হতে হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। মিতব্যয়ী হয়ে প্রকল্প যাচাই-বাছাই করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদও জানান তিনি।
ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্স (ইনসাম) মিটফোর্ড, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল ও বগুড়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। প্রকল্পের ব্যয় ২১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারপ্রধান নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমি চাকরিজীবনে যখন মাঠপর্যায়ে ছিলাম তখন দেখেছি, অনেকে স্বাস্থ্যের যন্ত্রপাতি খুলতেই পারে না। তাহলে কীভাবে মানুষ সঠিক সেবা পাবে?
বৈঠকে ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সারা দেশে মাশরুম চাষের সম্প্রসারণ করা হবে। ৯৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৬৪টি জেলার যেসব উপজেলায় মাশরুম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে তেমন ১৬০টি উপজেলা ও ১৫টি মেট্রোপলিটন থানায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাশরুম পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাবার, যা চাষের জন্য আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। অনুৎপাদনশীল স্বল্পপরিমাণ জমিতে স্বল্প পুঁজিতে মাশরুম উৎপাদন করা যায়। বছরব্যাপী মাশরুম চাষের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী। হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং উচ্চবিত্ত মানুষের কাছে মাশরুমের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই আগ্রহী উদ্যোক্তাদের মাশরুম চাষে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।