পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্য পরিচয়ে রাজধানীর রামপুরার বাসা থেকে এক চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার বিকেলে শাকির বিন ওয়ালী নামে ওই তরুণ চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় পরদিন সন্ধ্যায় রামপুরা থানায় জিডি করতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি বলেও জানান তারা। এ ছাড়া মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেও ওই চিকিৎসকের সন্ধান পাননি।
শাকির বিন ওয়ালী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। তিনি আগামী জানুয়ারিতে এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে তার পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
শাকিরের বাবা এ কে এম ওয়ালীউল্লাহ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে সাধারণ পোশাকে কিছু লোক তাদের বাসায় গিয়ে সিআইডি সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে শাকিরকে নিয়ে যায়। বাসায় তখন শাকিরের মা, স্ত্রী আর শিশুসন্তানরা ছিল।
ওয়ালীউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় রামপুরা থানায় জিডি করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু থানা জিডি নেয়নি। থানা থেকে বলেছে, রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা শাকিরকে নিয়ে গেছে বলে তারা শুনেছে। হয়তো তথ্য জানা শেষ হলে ফেরত দিয়ে যাবে।’ এর আগে ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে গিয়ে ছেলের খোঁজ করলেও তারা কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলে জানান তিনি।
ওয়ালীউল্লাহ জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চার বছর সৌদি আরবে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ১৯৯৫ সালে রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে শাকির দ্বিতীয়। শাকিরের স্ত্রীও চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ছে। তাদের দুই ছেলেমেয়ে। শাকিরের বড় সন্তানের বয়স দেড় বছর আর ছোটটির জন্ম কয়েক দিন আগে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যদি কোনো অন্যায় কাজ করে তাহলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। তাকে যেন গুম করে না রাখা হয়। সরকারের কাছে এ বিষয়ে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসক শাকিরের বিষয়ে থানায় কোনো জিডি হয়নি। তার বাবা থানায় এসেছিলেন। তাকে সরকারি লোকজন পরিচয়ে ধরে নিয়ে যেতে পারে বলে আমরা শুনেছি।’
সিআইডি পরিচয়ে চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির অতিরিক্ত সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। সিআইডি কোনো অপারেশন করতে গেলে জানিয়ে যাওয়ার কথা। তবু এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাকির বিন ওয়ালী ছাত্রজীবনে রেটিনা কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ওই কোচিং সেন্টারে পড়াতেন। তার বাবা ওয়ালীউল্লাহ ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সহসভাপতি। ইসলামি ও ডানপন্থি ঘরানার চিকিৎসকদের সংগঠন হিসেবে এটি পরিচিত।