টাঙ্গাইলের সখীপুরে খেলার মাঠে নারীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মো. মাজহারুল ইসলাম (২১) নামে শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
উপজেলার কালিয়ান এলাকায় গত শুক্রবার বিকেলে উত্ত্যক্তকারীদের হাতে দুই দফায় মার খেয়ে আহত হয়ে চার দিন পর মাজহারুলের মৃত্যু হলো। তিনি কালিয়ান দক্ষিণপাড়া এলাকার আবদুল মালেক মিয়ার ছেলে এবং সরকারি সা’দত কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে সখীপুর থানায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা আবদুল মালেক মিয়া।
এলাকাবাসী জানায়, কালিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি মাঠে গত শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকার বিবাহিত বনাম অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়। কয়েকজন বখাটে খেলা দেখতে আসা এলাকার নারীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। এ সময় মাজহারুল তাদের উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করলে ঘটনাস্থলেই দোহানীপাড়ার বখাটে ইয়ারুল ও তার সহযোগীরা তাকে কিল-ঘুষি মারে।
এ ঘটনার সূত্র ধরে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইয়ারুল ইসলাম (১৮), ছাব্বির আহমেদ (১৭)সহ সাত-আট জন মিলে লোহার রড ও দা দিয়ে মাজহারুলকে বেধড়ক মারধর করে। চিৎকার শুনে বাবা ও অন্যরা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় সোমবার রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বখাটেদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।’
সখীপুর থানার ওসি মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’