মানবতাবিরোধী অপরাধ

নেত্রকোনার বদর সদস্য খলিলের ফাঁসির রায়

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার আলবদর বাহিনীর নেতা খলিলুর রহমানকে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেয়।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। খলিল এ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। আইনের বিধান অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে এ রায় হয়।

এ মামলায় খলিলসহ মোট আসামি ছিলেন পাঁচজন। বিচার শুরুর আগে একজন ও পরে তিন আসামি মারা যায়।

আসামির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার বিভিন্ন এলাকায় ২২ জনকে হত্যা, এক নারীকে ধর্ষণসহ ৫টি অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সবকটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদ- এবং একটি অভিযোগে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অপরাধে তাকে ১০ বছর কারাদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে একটিতে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের শুনানি নিয়ে গত ১৮ জুলাই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষে এ মামলার শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। পলাতক খলিলের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।

প্রসিকিউশন জানায়, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০১৭ সালের ১৪ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের মধ্যে রমজান আলী বিচার শুরু হওয়ার আগে এবং আশক আলী, আজিজুর রহমান ও শাহনেওয়াজ বিচারের বিভিন্ন সময় মারা যায়।  

প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খলিলুর রহমান একাত্তরে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন। এরপর প্রথমে রাজাকার বাহিনীতে এবং পরে কুখ্যাত আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়ে এলাকায় গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দ-প্রাপ্ত যদি আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন। আর আপিল করলে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা করছি।’