দুই বছরের যুদ্ধবিরতির পর প্রতিবেশী দুই দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান জানিয়েছেন, নতুন সংঘর্ষে এক রাতেই তার দেশের অন্তত ৪৯ সেনা নিহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার সীমান্ত সংঘাতে আর্মেনীয় সেনাদের প্রাণহানির খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি, আলজাজিরাসহ বিশ্বগণমাধ্যম। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিবেশী আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানকে দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানো গেছে বলে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
সীমান্তে কয়েক ঘণ্টার ভয়াবহ সংঘাতের পর বিশ্বনেতাদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আর্মেনিয়া বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে আজারবাইজানের সেনারা।
মঙ্গলবার সকালের দিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে টেলিফোন করে ‘আজারবাইজানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সংসদে দেওয়া ভাষণে পাশিনিয়ান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের ৪৯ সৈন্য নিহত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই সংখ্যাটা চূড়ান্ত নয়’।
সাবেক সোভিয়েত এ দুই রাষ্ট্র বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে ২০২০ সালে প্রাণঘাতী এক যুদ্ধে জড়িয়েছিল। ৬ সপ্তাহের সেই যুদ্ধে উভয় পক্ষের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই যুদ্ধের পর আর্মেনিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া নাগোরনো-কারাবাখে কয়েক হাজার শান্তিরক্ষী মোতায়েন করে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে শান্তিরক্ষীদের প্রত্যাহার করে নেয় মস্কো।
তবে নতুন করে সংঘাতের ঘটনায় আবার মধ্যস্থতায় নামে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তিতে পৌঁছানো গেছে বলে আশা করছি। সংঘাত বৃদ্ধির এই ঘটনায় আমরা চরম উদ্বিগ্ন।’
বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কয়েক দশক ধরে বিবাদে লিপ্ত রয়েছে। এ অঞ্চল আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত কিন্তু আর্মেনিয়ার অধিবাসীরাই এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। সর্বশেষ যুদ্ধের পর এলাকার নিয়ন্ত্রণ বুঝে পেয়েছিল আজারবাইজান।