সাভারে অনুমোদনহীন একটি ফোম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আগুন পার্শ্ববর্তী গুদামেও ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সাভার পৌর এলাকার পূর্ব জামশিং মহল্লায় অবস্থিত মেপেল ম্যাট্রেস অ্যান্ড ফোম কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে কারখানা এবং গুদামের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৭টার দিকে পূর্ব জামশিং এলাকার আবুল বাশার হাওলাদারের মালিকানাধীন মেপেল ম্যাট্রেস অ্যান্ড ফোম কারখানায় হঠাৎ আগুন দেখতে পায় স্থানীয়রা। এসময় প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু কারখানাটির ভিতরে কেমিকেলসহ প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং কারখানার গুদামেও আগুন লেগে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে সকাল ৮টার দিকে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। এসময় পাশের বিল থেকে পানি নিয়ে টানা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে কারখানা এবং গুদামের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া আগুনের তাপে আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পানির পানির ট্যাংকিগুলো গলে গেছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কারখানাটির ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোনও কাগজপত্র নাই। বারবার তাদের নিষেধ করা হলে আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে কেমিকেল জাতীয় ম্যাট্রেস ও ফোম তৈরি করে আসছিল আবুল বাশার হাওলাদার। অল্পের জন্য আগুনের ঘটনা থেকে রেহাই পেয়েছে আশপাশে থাকা অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘর। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কারখানাটি এখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দুটি ইউনিট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করি। কিন্তু কারখানাটির গুদামে প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ এবং কেমিকেল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবে পাশেই বিল থাকায় এবং পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, কারখানাটির ফায়ার লাইসেন্স নাই এবং তাদের মূল ফটকের পাশেই লাগুয়া একটি বৈদ্যুতিক খুটি রয়েছে যার তারগুলোও অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায়।
ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক তারে লুস কানেকশন থেকে স্পার্কিং এর মাধ্যমে কারখানাটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে কারখানার মালিক আবুল বাশার হাওলাদার দাবি করেছেন, আগুনে তার কারখানা ও গুদামের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কারখানাটি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবি) সাভার শাখায় দায়বদ্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।