ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন, বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে জহিরুল ইসলাম মিঠু (২৬) নামের এক কলেজছাত্র খুন হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর শহরের কালিপুর পাটবাজার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত মিঠু বোকাইনগর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি গৌরীপুর সরকারি কলেজের সম্মান চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর শহরের পাট বাজারের টিপু সুলতান জুয়েলার্সে স্বর্ণ বিক্রি করতে যান এলবার্ট ডেভিড সেন্টু। স্বর্ণ মাপ দেওয়ার পর দাম নিয়ে টিপুর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় সেন্টুর। একপর্যায়ে সেন্টু দোকান থেকে বের হয়ে যান। পরে সেন্টু তার ভাই ডেবিট রকিকে নিয়ে আবারও দোকানে আসেন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। কলেজছাত্র মিঠু তাদের ঝগড়া থামাতে গেলে রকি তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা মিঠুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মিঠুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পৌর শহরের মধ্যবাজারে কয়েকটি দোকানে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হন।

গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের লিডার হুমায়ূন কবির বলেন, কলেজছাত্র মিঠু হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে পৌর শহরের মধ্যবাজারের কালিপুর ও মাছমহাল এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নেভাতে গেলে প্রথমবার লোকজন আমাদের গাড়ি ফিরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়বার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় আবারও ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় পাটবাজার মোড়ে যেতেই লোকজন গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। 

এতে আমি, ড্রাইভার আলী হোসেন, ফায়ার ফাইটার বাদল দত্ত ও মিন্টু মিয়া আহত হন। তাদের মধ্যে ড্রাইভার আলী হোসেনের অবস্থা গুরুতর। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অন্যরা গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফিরে এসেছেন।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মজুমদার বলেন, কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সেখানে বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ফেরত গেছে শুনে পুলিশি পাহারায় আবারও ঘটনাস্থলে পাঠানোর চেষ্টা করি। পাটবাজার মোড়ে পৌঁছাতেই লোকজন গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।