বাংলাদেশ-ভুটান ট্রানজিট চুক্তি ও প্রটোকল চূড়ান্ত হয়েছে। তৃতীয় দেশের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সহজীকরণ উদ্যোগের ফলে ট্রানজিট চুক্তি ও প্রটোকল বাস্তবায়ন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। গতকাল বুধবার শেষ হওয়া দুদিনের বাংলাদেশ ও ভুটানের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় শুরু হয় দুদিনের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক। ট্রানজিট চুক্তি ও প্রটোকল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা, বিশেষ করে তৃতীয় দেশের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সহজীকরণ উদ্যোগগুলো ফলপ্রসূ করেছে বৈঠকে। এ ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্প খাতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যথাক্রমে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট ও ভুটান স্ট্যান্ডার্ড ব্যুরো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভুটান কৃষি ও খাদ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার ছাড়াও ভুটান থেকে পাথর আমদানি ও সোনার হাট শুল্ক বন্দরের মাধ্যমে ভুটানে পণ্য পরিবহনে সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এবারের বৈঠকে ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং ৯ সদস্যের ভুটান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ডাসো কারমা শেরিং।
২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পিটিএ স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশ প্রথম এবং একমাত্র অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ করেছে ভুটানের সঙ্গে। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে আর ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এবারের বৈঠকে চুক্তির আওতায় আরও কিছু পণ্য অন্তর্ভুক্তি হয়েছে। দেশ দুটির বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয় ২০১২ সালে। ভুটান থেকে বাংলাদেশে সবজি ও ফলমূল, খনিজদ্রব্য, নির্মাণসামগ্রী, বোল্ডার পাথর, চুনাপাথর, কয়লা, পাল্প, রাসায়নিক আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভুটানে তৈরি পোশাক, আসবাব, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, প্লাস্টিক, বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি হয়।