হাসপাতাল হচ্ছে জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের  শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কেন্দ্রের শয্যা ২০টি বাড়িয়ে ৫০টি করা হবে। একই সঙ্গে জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নাম হবে মা ও শিশু হাসপাতাল। শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কেন্দ্রগুলোকে হাসপাতালে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করতে যাচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক শাখা কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের অনুকূলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে প্রথম ও চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের জন্য অর্থ বিভাগের অনুমতি চেয়েছে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক শাখার (উইং) সিনিয়র সহকারী প্রধান সাইনী আজিজ অর্থছাড়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক জেলা ও রাজধানীসহ সারা দেশে মোট ১১১টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। জেলা শহরের বাইরে বেশ কয়েকটি উপজেলায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্রকে হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-যুব-শিশু সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। ডায়রিয়া রোগীদের খাবার স্যালাইন সরবরাহ, গর্ভবতী রোগীদের চেকআপসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আয়রন ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও জাতীয় যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় যক্ষ্মা রোগীদের কফ্ পরীক্ষা এবং যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। শিশু ও মহিলাদের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়। রোগীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা দেওয়া হয়। কিশোর-কিশোরী ও সক্ষম দম্পতিদের মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রয়োজনে রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়। রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উপদেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়াসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হয়।

এসব সেবা কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি ও নাম পরিবর্তন করে মা ও শিশু হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। 

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে হাসপাতালে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে নতুন প্রকল্পের থোক বরাদ্দের সংরক্ষিত তহবিল থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং প্রথম ও চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ে সম্মতি দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে জেলা শহরের আরও বেশি সংখ্যক মানুষ উল্লিখিত সেবা ও বিনামূল্যের ওষুধ পাবেন।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়লেও দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানুষ সন্তুষ্ট নয় বলে সংসদে জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

গত ৫ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তারা বলেছেন, বর্তমান সরকারের একটানা ১৩-১৪ বছরের শাসনামলেও দেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার চিত্র খুব একটা বদলায়নি। কবে নাগাদ বদলাবে তাও কেউ জানে না।

সংসদ সদস্যরা আরও বলেন, অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। নতুন নতুন দৃষ্টিনন্দন ভবন হচ্ছে। কিন্তু দক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তৃণমূলের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারছে না।

২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪ হাজার ১৩২ কোটি টাকা বেশি। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।