ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ২৩ শতাংশ

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক থেকে। আর এই রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ^জুড়ে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও ইউরোপ, আমেরিকায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ইউরোপে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ শতাংশ। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশের বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান সংকলন করে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ। 

ইপিবি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ের জন্য দেশভিত্তিক রপ্তানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩৪৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে জার্মানিতে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জার্মানি ছাড়াও স্পেন এবং ফ্রান্সে পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ ও ৩৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ইইউর অন্যান্য দেশেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৪১ কোটি ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় আরএমজি রপ্তানিও যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ৬৪ এবং ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

উল্লিখিত সময়ে অপ্রচলিত বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি বাড়লেও রাশিয়া ও চীনে রপ্তানি কমেছে। তবে পোশাক রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিজিএমইএর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অপ্রচলিত বাজারে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশের পোশাক রপ্তানি ১২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৮ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান ও ভারতে রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনে রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ৫৮ ও ১৩ শতাংশ।

বিজিএমইএ পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল জানান, যদিও গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি বেড়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সূচক এবং অনুমানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি খুচরা ব্যবসাকে প্রভাবিত করার কারণে সেপ্টেম্বর থেকে প্রবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে। বেশ কয়েকটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড বিক্রি এবং অবিক্রীত স্টক হ্রাসে ভুগছে, তাই তারা আমাদের শেষ পর্যন্ত বর্তমান ক্রয়াদেশ এবং উৎপাদন বন্ধ করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের শিল্পটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সমর্থন অব্যাহত থাকবে, যাতে আমরা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারি।

উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে বিশ^জুড়ে চলা নানা সংকটের মধ্যেও চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৮৫৯ কোটি ১৮ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি।

ইপিবি প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭১১ কোটি ২৬ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। মূলত তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয়ের উল্লম্ফনের কারণেই বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। 

ইপিবির প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে যে রপ্তানি আয় হয়েছে তার ৮২ দশমিক ৭ শতাংশই তৈরি পোশাক থেকে এসেছে। এরমধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৯১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ। আর ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয় ৩১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৩৪ শতাংশ। এ সময় হোম টেক্সটাইল ও বিশেষায়িত টেক্সটাইলেও রপ্তানিতে যথাক্রমে ৫৩ ও ৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।