করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস গেব্রিয়াসুস। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার হ্রাস বিবেচনায় করোনা মহামারী ‘শেষ দেখা যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশার বাণী শোনান জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার এই মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, ‘গেল সপ্তাহে সাপ্তাহিক মৃত্যুহারের প্রতিবেদন বলছে ২০২০ সালের মার্চের পর করোনায় এখন মৃত্যুহার সবচেয়ে কম। যদিও আমরা কখনোই মহামারী বন্ধের মতো ভালো অবস্থায় ছিলাম না। এখনো কাক্সিক্ষত অবস্থায় নেই, তবু বলা যায় মহামারীর শেষ দেখা যাচ্ছে।’
তবে এখনো করোনা মোকাবিলার বৈশ্বিক প্রচেষ্টা চলমান রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। করোনার বিরুদ্ধে জয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রসঙ্গে গেব্রিয়াসুস বলেন, ‘ম্যারাথন দৌড়ে সমাপ্তি ফিতা দেখেই কেউ দৌড় থামিয়ে দেয় না বরং দীর্ঘ দৌড়ের পর ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে সবটা শক্তি দিয়ে দৌড়েই ফিতা ছুঁতে হয়।’
এখনো করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, মৃত্যু এবং অনিশ্চয়তার শঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোতে ১০০ শতাংশ টিকা দেওয়ার এবং ভাইরাস শনাক্তের জন্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান তার।
ভবিষ্যৎ করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের জন্য ছয়টি সংক্ষিপ্ত নীতি প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। সংস্থা প্রধানের মতে, এসব নীতি সরকারগুলোর কঠোর কৌশল প্রণয়ন এবং করোনাসহ ভবিষ্যতের মহামারীগুলো প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধির জরুরি আহ্বান।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক বলেন, করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন এবং থেরাপি এই রোগের তীব্রতা রোধ করতে সাহায্য করেছে। তাই ভাইরাসের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ঢেউ সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি দেশগুলোকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হাতে রাখতে হবে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই এই ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সংক্রামক এই ভাইরাসে ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৫ লাখেরও বেশি মানুষ।