রাষ্ট্র হিসেবে জন্মের পর থেকেই রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা, মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানে মড়ার উপর খাঁড়া ঘা বিপর্যয়কর বন্যা। বৈদেশিক সাহায্যের মুখাপেক্ষিতা দেশটির পিছু ছাড়ছে না। পুরো দেশের এই হতাশার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘আমরা গত ৭৫ বছর ধরে ভিক্ষার বাটি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’
গত বুধবার পাকিস্তানের আইনজীবীদের এক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে দেশের এই পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার তার এ বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে শাহবাজ বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো পাকিস্তানকে এমন একটি দেশ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে যেটি সর্বদা টাকা চেয়ে বেড়াচ্ছে। আজ যখন আমরা কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশে যাই বা ফোন করি, তখন তারা মনে করে যে আমরা টাকা ভিক্ষা করতে এসেছি।’
প্রধানমন্ত্রী শরিফ আরও বলেন, বন্যার আগে পাকিস্তানের অর্থনীতি একটি ‘চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হয়েছিল। আর এই বন্যা এটিকে আরও ‘জটিল’ করে তুলেছে।
তিনি বলেন, গত এপ্রিলে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করার সময় পাকিস্তান ‘অর্থনৈতিক খেলাপি’র দ্বারপ্রান্তে ছিল এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে খেলাপি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে তার জোট সরকার। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার সরকার অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণও করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি এখন ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ রয়েছে স্বীকার করে তিনি পরোক্ষভাবে এই ঘটনার জন্য পূর্ববর্তী সরকার অর্থাৎ ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) দায়ী করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসকরা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং বর্তমান সরকারকে কঠোর শর্তে সম্মত হতে বাধ্য করেছে। এমনকি শর্ত পূরণ না হলে আইএমএফ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছে বলে জানান পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরিফ বলেন, এমনকি ছোট অর্থনীতির দেশও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে । এই অঞ্চলে এমন দেশও রয়েছে যাদের জিডিপি পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম থাকলেও বর্তমানে তারা রপ্তানির দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে ।
‘৭৫ বছর পর পাকিস্তান আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?’ এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় একটি বৃত্তের মধ্যে ঘুরছি। দেশে সম্ভাবনা আছে কিন্তু কাজ করার ইচ্ছার অভাব রয়েছে।’
পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী আগামী শীতে সম্ভাব্য গ্যাস সংকটের বিষয়েও সতর্ক করেছেন। শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘শীত মৌসুম আসার আগেই গ্যাসের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে তার সরকার।’ তিনি জানান, বৃষ্টি ও বন্যা দেশে নজিরবিহীন বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এমন জলবায়ুজনিত বিপর্যয় সম্ভবত বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায়নি।