গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, একটি টেলিগ্রাম পোস্টের বরাতে স্পেনের ইউরো উইকলির এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়। সেখানে বলা হয়, পুতিনকে বহনকারী লিমোজিন গাড়ির সামনে বামপাশের চাকায় বিকট শব্দ হয়েছিল। এ সময় ধোঁয়া বের হওয়ার পরও গাড়িটি দ্রুত নিরাপদে চলে যায়। তবে এ ঘটনা কবে কখন তা জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। বুধবার রাজধানী কিয়েভে জেলেনস্কিকে বহনকারী গাড়ির সঙ্গে অন্য একটি গাড়ির সংঘর্ষ হলে তিনি আহত হন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কির মুখপাত্র সের্হি নাইকিফোরভ। তবে এই দুর্ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে সেটি প্রকাশ করেননি নাইকিফোরভ। তিনি জানান, কিয়েভের রাস্তায় জেলেনস্কির গাড়ির সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সংঘর্ষ হয়। আরও জানান, দুর্ঘটনার পর প্রেসিডেন্টকে একজন চিকিৎসক পরীক্ষা করেছেন। কোনো গুরুতর আঘাত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।
পুতিনের হত্যা চেষ্টা প্রকাশ করা ইউরো উইকলি নিউজের প্রতিবেদনে ‘জেনারেল জিভিআর’ নামের একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের পোস্টকে অসমর্থিত সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গত বুধবারের ওই পোস্টে বলা হয় পুতিনকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা হয়েছে। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র উল্লেখ না করে জেনারেল জিভিআর দাবি করে, এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের দেহরক্ষী দলের প্রধান ও আরও কয়েকজনকে বরখাস্ত এবং নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দেহরক্ষীদের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকজনই পুতিনের চলাফেরার ব্যাপারে জানতেন এবং তারা সবাই প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দলের সদস্য।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউজ অস্ট্রেলিয়াও পুতিনকে হত্যা চেষ্টার সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে একই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরা বলা হয়, ‘গাড়ি বহরে ফেরার পথে বাসভবন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পুতিনের বহরের প্রথম গাড়িটিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স বাধা দেয়। তবে গাড়ি বহরের দ্বিতীয় গাড়িটি না থেমে ঘুরে নিরাপদে চলে যায়’।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অতীতেও রাশিয়ার এই প্রেসিডেন্টকে একাধিকবার গুপ্তহত্যার চেষ্টা হয়েছিল। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো পুতিন স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি অন্তত পাঁচবার গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন।