গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এসএসসি সমমানের দাখিল পরীক্ষার প্রথম বিষয় কুরআন মাজিদ পরীক্ষা দিয়েই পরদিন গতকাল শুক্রবার বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল টাঙ্গাইলের মধুপুরের দুই পরীক্ষার্থীর। কিন্তু দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বাল্যবিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পণ্ড হয়ে গেছে সব আয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতার মুখে একটি বিয়ে স্থগিত এবং আরেকটি আয়োজন করেও শেষ করতে পারেননি অভিভাবকরা।
ওই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে রাধানগর ব্রাহ্মণবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী রাশিদা আক্তার রাশি। ওই গ্রামেরই রাজ্জাকের মেয়ে রাশিদার মধুপুর পৌর এলাকার নাগবাড়ীর বাসিন্দা কছিম উদ্দিন কছুর প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিয়ের কথা ছিল। শামিয়ানা টাঙানো, গেট তৈরিসহ সব আয়োজন প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। প্রথম পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে নিজের বিয়ের আয়োজনের এসব দৃশ্য দেখেছেও রাশিদা। এরই মধ্যে ‘মধুপুরে প্রথম পরীক্ষা দিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসছে দুই শিক্ষার্থী’ শিরোনামে গতকাল সকালে দেশ রূপান্তর অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের অভিভাবকরা বিপদের শঙ্কায় বিয়ে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। অপসারণ করা হয় গেটের সাজসজ্জা, খুলে ফেলা হয় শামিয়ানা।
অন্যদিকে মধুপুর পৌর এলাকার পু-ুরা গ্রামের খন্দকার মনির হোসেন ওরফে ময়নার মেয়ে মধুপুর আদর্শ ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী খন্দকার মিতুর বিয়ের আয়োজন চলছিল পাশের ঘাটাইল উপজেলার এক ব্যক্তির সঙ্গে। অনেকটা মেজবানি আয়োজনে ধুমধামে গতকাল দুপুরে মিতুর বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বর আসবে বলে অপেক্ষা চলছিল। খাওয়াদাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর একটু আগে উপজেলা প্রশাসন পুলিশসহ হাজির হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবককে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয় মিতুর অভিভাবকের কাছ থেকে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসাইন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।