সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা থাকলেও সেটির নাম পাল্টে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নেওয়া হচ্ছে সপ্তাহান্ত (উইকেন্ড) কোর্স। যেখানে খোদ উপাচার্যই ক্লাস নেন। আর এ অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরের কুবি প্রতিনিধি নাঈমুর রহমান রিজভী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের রোষানলের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার অন্য একটি প্রতিবেদনের জন্য উপাচার্যের কার্যালয়ে তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি রিজভীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন তীর্যক মন্তব্য করেন।
উপাচার্য নাঈমুর রহমান রিজভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি এটা কী রিপোর্ট করেছ, বলো আমাকে? কীসের জন্য করেছ এ রিপোর্ট? কোনো অসুবিধা হইছে বিশ্ববিদ্যালয়ের? তোমাদের পারপাস (উদ্দেশ্য) কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করা? তোমরা বসে আছো বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান নষ্ট করার জন্য।’
এ সময় রিজভীর পাশে ছিলেন আরও কয়েকটি গণমাধ্যমের কুবি প্রতিনিধি। তাদের উদ্দেশ্য করে উপাচার্য বলেন, ‘তোমরা একটি নিউজ করেছ, উপাচার্য সদুত্তর দিতে পারে নাই। আমি তো সব উত্তর দিয়েছি, তোমরা বলেছ সদুত্তর দেয়নি। হাউ ডিয়ারিং দিস গাইস আর (এদের কত বড় সাহস)। হু পেইস ইউ ফর দিস (এসবের জন্য কে তোমাদের টাকা দেয়)? আমি তোমাদের কোনো ইন্টারভিউ দেব না। তোমাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নাই।’
এরপর সাংবাদিকরা যে প্রতিবেদনের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গিয়েছিলেন তা না দিয়েই নিজের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান উপাচার্য।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক নাঈমুর রহমান রিজভী বলেন, ‘একটি সংবাদের বক্তব্য নিতে আমি উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। তখন তিনি দেশ রূপান্তরে “নাম বদলে সান্ধ্যকালীন কোর্স” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, “তোমাদের কে পেমেন্ট করে? তোমাদের কে চালাচ্ছে? তোমাদের এত সাহস?” এমন বিভিন্ন তীর্যক মন্তব্য করেন তিনি।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পরে গত বৃহস্পতিবার এবং গতকাল শুক্রবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাংবাদিকদের উচিত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং উপাচার্যের উচিত আচরণে পেশাদারিত্ব সমুন্নত রাখা।’
গত ১০ সেপ্টেম্বর দেশ রূপান্তরে ‘নাম বদলে সান্ধ্যকালীন কোর্স’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে নাম পাল্টে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের উইকেন্ড ১৮তম ব্যাচের এমজিটি-৫০৭ কোডের এন্ট্রারপ্রেনিউর ডেভেলপমেন্ট কোর্সের ক্লাস নিয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মঈন। ইউজিসির নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়েরই উপাচার্য এসব প্রোগ্রামে ক্লাস নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।