তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, তার নেত্রী খালেদা জিয়া ও তাদের দল যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, হৃদয়ে যে পাকিস্তানকেই লালন করে সেটিই তিনি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন।
‘বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে, পাকিস্তানই ভালো ছিল’ মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চায় বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। তারাই নির্বাচন থেকে পালিয়ে যায়। ২০১৮ সালেও তারা নির্বাচন থেকে পালাতে পালাতেই আবার অংশগ্রহণ করেছিল। আগামী নির্বাচনেও তারা প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ করুক সেটিই আমরা চাই। কিন্তু তারা আন্দোলনের নামে যেভাবে আবার নিজেরা নিজেরা মারামারি করছে, পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে, আবারও পেট্রোল বোমা নিয়ে সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে, এজন্য জনগণই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
তিনি বলেন, আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক, মানব উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসহ সব সূচকে পাকিস্তানকে ২০১৫ সালে অতিক্রম করেছি। আমাদের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি বটেই, এমনকি ভারতের চেয়েও বেশি। আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার আগে দারিদ্র্যসীমার হার বাংলাদেশে ৪১ শতাংশ ছিল, এখন সেটি ২০ শতাংশে নেমেছে। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের ওপরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৬৩ বছরের বেশি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানও সেটি স্বীকার করে। আমরা যে পাকিস্তানকে ফেলে অনেকদূর এগিয়ে গেছি সেটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ রাজনীতিবিদরা স্বীকার করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব গতকাল ঠাকুরগাঁও গিয়ে বললেন পাকিস্তানই ভালো ছিল।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা সব সময় চাই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। কিন্তু ২০১৪ সালে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পরিবর্তে তারা নির্বাচনকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। ৫০০ নির্বাচনী ভোটকেন্দ্র স্কুলঘর জ¦ালিয়ে দিয়েছিল। শিশু-কিশোরদের বই জ¦ালিয়ে দিয়েছিল। আমরা চাই তারা পুলিশ ও জনগণের ওপর হামলার পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করুক। তারা যেখানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাবেশ করে সেখানে তো পুলিশ কখনো বাধা দেয় না। যেখানে তারা সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করছে, সেখানে পুলিশকে আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে এবং জনগণও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবেÑ দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের এমন ঘোষণার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছেন তারা কোনো জোটে নাই, তিনি সঠিকই বলেছেন। গতবারও তারা আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করেননি। ২০০৯ সালে আমরা তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছিলাম। ২০১৮ সালে আমাদের সঙ্গে তাদের স্ট্র্যাটেজিক্যাল অ্যালায়েন্স ছিল।