বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এমপি বলেছেন, ‘মাদকের সঙ্গে জড়িতরা প্রভাবশালী। অনেক ক্ষেত্রে এদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরেও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দমন করতে হবে।’
তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিতে পারেন। এতে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে। মাদক থেকে কেউ-ই নিরাপদ নয়।
শনিবার সকালে ৫৫ বিজিবি হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবি সরাইল রিজিয়নে শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীন তিনটি ব্যাটালিয়নের আটকরা মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সকল অপরাধের মূলে রয়েছে মাদক। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।’
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধিনায়ক কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ।
স্বাগত বক্তৃতা করেন বিজিবি‘র ৫৫ ব্যাটালিয়ন হবিগঞ্জ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম সামিউন্নবী চৌধুরী।
আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদিকুর রহমান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, বিয়ানীবাজার ৫২ ব্যাটালিয়ন ও হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের উদ্ধারকৃত মোট পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫শ টাকা মূল্যের মাদক দ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন এক কোটি ৭৪ লাখ ৭২ হাজার একশ, বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩শ ২৫টাকা ও হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের তিন কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫ টাকার মাদক দ্রব্য রয়েছে।
ধ্বংসকৃত মাদক দ্রব্যের মধ্য রয়েছে ভারতীয় মদ,ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশীয় মদ , খোলা মদ, ভারতীয় বিয়ার, ভারতীয় বোতল জাত মদ, নাসির পাতার বিড়ি, বাবা জর্দা, ইস্কপ সিরাপ ও ভারতীয় সুগন্ধি পাতার বিড়ি ইত্যাদি।