ফের করোনা টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইন

আবারও করোনা টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইন হচ্ছে দেশে। যারা এখনো টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেননি, তাদের জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে সরকার।

এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে প্রথম ডোজ নেয়নি এমন ৩৩ লাখ এবং দ্বিতীয় ডোজে বাদ পড়া ৯৪ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানিয়েছেন। পাশাপাশি সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘৩ অক্টোবরের পর আমরা আর প্রথম ডোজ দিতে পারব না। দ্বিতীয় ডোজও দেওয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। কারণ তখন হয়তো আমাদের কাছে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের জন্য টিকা থাকবে না। যেগুলো থাকবে, সেগুলোরও মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।’

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘৫-১১ বছরের শিশুদের কভিড-১৯ টিকা কার্যক্রমবিষয়ক জাতীয় অ্যাডভোকেসি ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া আগামী ১১ অক্টোবর থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের করোনা টিকা কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৩৭ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। এখন পর্যন্ত ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এখনো প্রায় সোয়া দুই কোটি শিশুকে টিকা দিতে হবে। তার মানে চার কোটির বেশি টিকা এখনো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা টিকা কার্যক্রমে আড়াই লাখ মানুষ কাজ করছে। এর মধ্যে টিকাদান কর্মীই ৬০ হাজার। এখন পর্যন্ত ৩০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৭৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ করোনা টিকার প্রথম ডোজ, ৭১ দশমিক ৩৬ শতাংশ দ্বিতীয় ডোজ এবং ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ পেয়েছে। সরকার ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের উপযোগী ফাইজারের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে।

ডেঙ্গুর ব্যাপারে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত ১০-১২ হাজার লোক আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। এর বাইরেও অনেক রোগী হাসপাতালে আসেনি। সব মিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।