মিয়ানমার যা করছে তার ভেতরে কাহিনী আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। তবে কী সেই কাহিনী সেটা খোলসা করেননি মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ করুন, তাদের সীমানা পেরিয়ে আমাদের সীমানায় তাদের গোলাবারুদ আসছে। আমাদের এখানে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যারা একদম জিরো লাইনে অবস্থান করছিল, ওই এলাকার ক্যাম্পের ভেতরে যে গোলাবারুদগুলো এসে পড়ে এর মধ্যে দুটি বিস্ফোরিত হয়েছে।’
গতকাল রবিবার সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনো যুদ্ধ চায় না। আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি, আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না।’
গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। তারা যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করছে। বলা হচ্ছে, বিদ্রোহী বাহিনী দমনে তারা সেখানে অভিযান পরিচালনা করছে। কয়েক দফা বাংলাদেশের বান্দরবানের তুমব্রু ও ঘুমধুমের সীমানায় তাদের ছোড়া মর্টারের গোলা এসে পড়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে একটি গোলা এসে পড়লে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এছাড়া ওই ঘটনায় এক শিশুসহ পাঁচ রোহিঙ্গা আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারের বিষয়ে বাংলাদেশ কী ভাবছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও তাদেরকে কড়া প্রতিবাদ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল আছেন। আমরা মনে করি, এভাবে যদি এটা চলতেই থাকে তাহলে জাতিসংঘে গিয়ে বিষয়টি তুলব। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’
মিয়ানমার যে কোনো একটা কারণে করছে আপনি বললেন, কারণটা আসলে কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে বিভিন্ন বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ লেগেই আছে। এসব কারণে এটা হতে পারে। কেন হচ্ছে আমরা জানি না। আমরা জানি, আমাদের সীমান্তে এসে পড়ছে। কেন হচ্ছে, এটা তারা জানে। ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে হয়তো তারা এটা বলবে। ব্যাখ্যা যদি তাদের থাকে তারা সেগুলো জানাবে। আমরা যেখানে কনসার্ন, আমাদের এলাকায় তাদের গোলাবারুদ পড়ছে, এটার জন্য আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
বিষয়টি কখন জাতিসংঘকে জানাবেন এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আর একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বর্ডারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যথেষ্ট মনোবল নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।’