জাল সনদে চাকরি করছেন নীলফামারীর ২৪ শিক্ষক!

নীলফামারী জেলায় জাল সনদে ২৪ শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এর মধ্যে ১৯ শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি সুযোগসুবিধা ভোগ করছেন। আর বাকি পাঁচজন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক। তারাও এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমাদের কাছে ১০ বছরের কতগুলো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার একটি হিসাব চেয়েছে। আমরা উত্তরে কতগুলো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি তা জানিয়েছি। ডিআইএর পক্ষ থেকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে জাল সনদের বিষয় অনেক আছে। ওখানে বিশেষ করে এনটিআরসি সনদ, কম্পিউটার সনদ, গ্রন্থাগার সনদসহ এ রকম কিছু বিষয়ে ওই শিক্ষকদের সনদ ঠিক পাওয়া যায়নি।’

ডিআইএ রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের জাল সনদে চাকরিরত শিক্ষকদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বে যে তালিকা  প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে এই দুই অঞ্চলের ৩২৩ শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে নীলফামারীর ২৪ শিক্ষকের নাম পাওয়া যায়।

ডিআইএর তথ্যমতে, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের ২৫ মে পর্যন্ত দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধি অভিযানে ১ হাজার ১৫৬ শিক্ষকের শিক্ষাগত ও যোগ্যতার সনদ ভুয়া পেয়েছে ডিআইএ। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জাল সনদধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪৪৩ জন। এ জন্য ওইসব শিক্ষককে দেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

ডিআইএর তালিকা অনুযায়ী নীলফামারী জেলার জাল সনদধারী ২৪ শিক্ষক হলেন নীলফামারী সদরের চাঁদের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক রাদিফা বেগম, দুহুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক মোছা. ছাবিনা ইয়াছমিন ও মোছা. রওশন আক্তার।

জলঢাকা উপজেলার জলঢাকা দ্বিমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক মুকুল হোসেন, মীরগঞ্জ হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানশিক্ষক আইয়ুব আলী, বালাপাড়া উচ্চ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনাথ চন্দ্র রায় ও কম্পিউটার শিক্ষক আনারুল হক। কিশোরীগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক শিরিনা আক্তার, মাগুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক মো. লতিফুজ্জামান, মনিকা রানী রায় ও ইংরেজি শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক।

ডিমলা উপজেলার সোনাখুলী চাপানী সৈকত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আশরাফ হোসেন, জটুয়াখাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মশিক্ষক সাইফুর রহমান, ছাতনাই কলোনি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মফিজুর রহমান, খড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক নাজিয়া আলম, তিস্তা কলেজের কম্পিউটার প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক। সৈয়দপুর উপজেলার সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয়ের আজিজুল ইসলাম ও ধর্মশিক্ষক আব্দুল মতিন। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া নীলফামারী সদরের ছমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা প্রভাষক মোছা. তামান্না সুলতানা, ডোমার উপজেলার কেতকি বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক মোছা. আকলিমা বেগম, বামুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক মো. জহুরুল হক, সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষ্মণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের জীববিজ্ঞানের প্রভাষক মোছা. মেরিনা মান্নান ও সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক মো. মজিবুর রহমান, ডিমলা উপজেলা জটুয়াখাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক¤িপউটার শিক্ষক আলমগীর রহমানের নাম নন-এমপিওভুক্ত তালিকায় রয়েছে। তারাও এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগের (ডিআইএ) প্রতিবেদনে জাল সনদে শিক্ষকদের চাকরি নেওয়ার তথ্য মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে এখনো কোনো অফিশিয়াল নির্দেশনা আসেনি। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। উপর থেকে নির্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’