দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকায় আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে নতুন করে বিমানবন্দর থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে পদায়ন করা হয়। এ পদায়নকে পুরস্কার হিসেবে দেখছেন অনেকে। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত না করে আরও ভালো পদায়ন করলে পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতি করার প্রবণতা বাড়বে।
পুলিশের একজন পরিদর্শকের এ সম্পদ নিয়ে পুলিশ বিভাগেও আলোচনা চলছে। বর্তমানে মনিরুল নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা স্কেলে সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন পান। এ বিষয়ে কথা বলতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
এদিকে একই আদেশে ডিএমপির রমনা, গুলশান, শাহবাগ ও তুরাগ থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়েছে। গুলশান থানার ওসি আবুল হাসানকে রমনা মডেল থানার ওসি, বিমানবন্দর থানার ওসি বি, এম, ফরমান আলীকে গুলশান থানার ওসি, রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদকে শাহবাগ থানার ওসি ও শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদারকে তুরাগ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া একই আদেশে তুরাগ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসানকে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগে পদায়ন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় ‘ঢাকায় ওসির আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মনিরুল ইসলাম ঢাকায় আটতলা বাড়ি করেছেন। বানাচ্ছেন আরেকটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে তার রয়েছে চারটি প্লট। বাড়ি, প্লটসহ এই বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পর তদন্তে নামে দুদক।
মনিরুলের আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ ও মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের অভিযোগের অনুসন্ধান তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে দুদককে নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট। এর আগে দুদকের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দিয়ে আদালতকে জানানো হয়, রমনার ওসির বিপুল সম্পদ ও মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের অভিযোগের বিষয়ে তারা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত গত ৮ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।