মিয়ানমারের গোলা ও গুলি যেন বাংলাদেশে না আসে

বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেল ও গুলি পড়ার ঘটনা ও সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের মিশনপ্রধানদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনীতিক ও মিশনপ্রধানদের তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার জন্য বলা হয় কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তপরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন পদ্মায় ডাকা হয় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশনপ্রধানদের। সীমান্তে মিয়ানমারের কর্মকান্ড নিজ দেশের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া বিদেশি কূটনীতিক ও মিশনপ্রধানরা। যদিও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ও চীনা দূতবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখেন।

গতকাল ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ভারত, রাশিয়াসহ সব দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিল চীন। গত সোমবার অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) সদস্য দেশগুলোর কাছে সীমান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরেছিল বাংলাদেশ।

কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতদের বলেছি মিয়ানমার এই অঞ্চলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চেষ্টা করছে। তারা যাতে তা না করতে পারে তার জন্য আমরা আপনাদের সাহায্য চাই। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি দেখছি এবং আমরা কোনোভাবেই চাই না এই সবের সঙ্গে জড়িত হতে। জড়িত হলে মিয়ানমার একটা সুযোগ পাবে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নেওয়ার একটা অজুহাত পাবে। কোনো অজুহাত আমরা মিয়ানমারকে এ মুহূর্তে পেতে দিতে চাই না।’

রাষ্ট্রদূতরা আমাদের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন উল্লেখ করে খুরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা যে ধৈর্য দেখাচ্ছি, কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছি না, এটাকে তারা প্রশংসা করেছেন। তাদের যদি করণীয় কিছু থাকে, বিশেষ করে জাতিসংঘে, তা করার ব্যাপারে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এটাও বলেছি যে, আপনারা যে অ্যাকশন নেওয়া উচিত বলে মনে করবেন, তা করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। আপনারা আপনাদের প্রভাব খাটিয়ে মিয়ানমারকে বলুন, তাদের গোলা যেন বাংলাদেশে এসে না পড়ে। বাংলাদেশের জনগণের ওপর যেন চাপ তৈরি না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি ৫ বছর হয়ে গেছে। এই সময়ে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা এমন কিছু করিনি যার জন্য মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের সীমান্তের ভেতরে থাকা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে। তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না, তারা ধানক্ষেতে যেতে পারবে না, তাদের ঘরবাড়িতে থাকতে পারবে না এটা তো হতে দেওয়া যায় না।’ 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রাণহানি হচ্ছে, সেই ব্যাপারে আমরা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছি। মিয়ানমার থেকে কোনো গোলা যেন আমাদের দেশে এসে না পড়ে। পরে আমরা আসিয়ান দেশগুলোকে একই কথা বলেছি মিয়ানমারের গোলা যেন বাংলাদেশে না পড়ে। এখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশনপ্রধানদেরও একই কথা অবগত করলাম।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমারকে বুঝতে হবে, বাংলাদেশ হলো পশ্চিমে, দক্ষিণে আরাকান আর্মি। তাদের গোলা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসার কথা নয়। জিওগ্রাফিক্যালি তা হয় না, যদি কেউ ইচ্ছে করে গোলা না ফেলে। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি, যাতে তারা বুঝতে পারে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তাদের জন্যও বিপজ্জনক। বাংলাদেশ তা মেনে নেবে না।’