নিরাপত্তা চেয়ে শূন্য রেখার রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘে চিঠি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছেই। পাশাপাশি মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে সীমান্ত জনপদ। বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনারপাড়ায় সীমান্তের শূন্য রেখার (নো ম্যান্স ল্যান্ড) আশ্রয়শিবিরে থাকা কয়েক হাজার রোহিঙ্গা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার তারা নিরাপত্তা দাবিতে আশ্রয়শিবিরে মানববন্ধনের পাশাপাশি জাতিসংঘে চিঠি পাঠিয়েছে। শূন্য রেখার আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইমেইলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পাঠানো হয় বলে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। এদিকে তমব্রুর পর কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার শতাধিক পরিবারকে সীমান্ত থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী।

নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি মিয়ানমার সামরিক জান্তা বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে শূন্য রেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণ করতে পারে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে শূন্য রেখার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হয়েছে।’

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে ঘুমধুমে শূন্য রেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে তাড়ানোর জন্য নানা পাঁয়তারা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এখনো হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে সেখানকার রোহিঙ্গাদের। এমনকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শূন্য রেখায় মর্টার শেল ও গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। এতে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু ও পাঁচজন আহত হয়েছে। শূন্য রেখায় বর্তমানে সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

তমব্রু গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জানান, গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে বেশ কিছু মর্টার শেলের গোলা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

গর্জন বুনিয়া গ্রামের চায়ের দোকানি আবু শমা বলেন, ‘প্রতিদিন শুনছি গুলির শব্দ। বাড়ির ছোট ছেলেরা ভয়ে স্কুলে যায় না। কবে এগুলো শেষ হবে। আজ (গতকাল মঙ্গলবার) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০টির বেশি মর্টার শেলের গোলা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।’

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজও (গতকাল) মিয়ানমারে গোলাগুলি চলছে।’

নতুন নতুন পয়েন্টে গোলাগুলি : উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকায় এবার নতুন করে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। গতকাল সকাল ৭টা থেকে দুপুর পর্যন্ত আঞ্জুমানপাড়ার সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা গোলাগুলির শব্দ পান বলে ওই এলাকার বাসিন্দা ইউনুস বাপ্পি জানিয়েছেন। তবে সন্ধ্যার দিকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি।

এ ব্যাপারে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী বলেন, ‘বান্দরবানের তমব্রুর পর এবার আঞ্জুমানপাড়ার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পালংখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বালুখালু, জমিদারপাড়া ও ধামনখালীপাড়ার ১০০ পরিবারকে সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতিতে আমরা সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’