ব্যবসায়ী অপহরণ ও মুক্তিপণ

ডিবির বরখাস্ত সাত সদস্যের সাত বছর করে কারাদণ্ড

কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বরখাস্ত সাত সদস্যকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। টেকনাফের একজন কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে করা মামলায় এ রায় হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন দণ্ড পাওয়া সব আসামি। তারা হলেন কক্সবাজার ডিবির তৎকালীন এসআই মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজম।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ডিবির বরখাস্ত সাত সদস্যের কারাদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ রায় দেন। বিচারক ৩৬৫ ধারায় পাঁচ বছর এবং ৩৮৬ ধারায় সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন। উভয় সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে হবে। ফলে সাজা সাত বছর বলে গণ্য হবে।’

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের সড়ক থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় ব্যবসায়ীর পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোরে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গফুরের স্বজনরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা চৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর ওই নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। চৌকির সেনাসদস্যরা মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যদের মাইক্রোবাস তল্লাশি করে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির এসআই মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনাসদস্যরা। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মামলা করেন। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।