বরগুনার বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম আদনান খালিদ মিথুনের ইয়াবা সেবনের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার রাত থেকে বরগুনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ফেইসবুক আইডির মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। যাতে ছাত্রলীগ সভাপতি মিথুনকে একটি কক্ষের মধ্যে বসে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যায়। ছাত্রলীগ সভাপতির এরকম কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতি মিথুন শুধু মাদকসেবীই নন, পাশাপাশি মাদক কারবারেও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, ছাত্রলীগের সভাপতি পদের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন তিনি।
তবে মিথুনের দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটি কয়েক বছর আগের। কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে কৌতূহলবশত তখন ইয়াবা সেবন করলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো মাদকদ্রব্য সেবন করেন না।
ভাইরাল হওয়া ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি মিথুন একটি কক্ষের মধ্যে বসে ইয়াবা সেবন করছেন। পাশে বসে ইয়াবা সেবনে তাকে অন্য একজন সহযোগিতা করছেন। কিন্তু ওই ব্যক্তির চেহারা ভিডিও ক্লিপে দেখা না যাওয়ায় তাকে শনাক্ত করা যায়নি।
জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা বিএম আদনান খালিদ মিথুন বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত আলতাফ হোসেন বিশ্বাসের ছেলে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মিথুনের বাবা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে মিথুন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। এ কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদনান খালিদ মিথুন শুধু মাদকসেবীই নন, তিনি মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত। ছাত্রলীগের সভাপতি পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এসব কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন।’
মিথুনের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেতাগী ছাত্রলীগের এক কর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন কেউ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসুক সে (মিথুন) তা চায় না। তাই সে দীর্ঘদিন ধরে সভাপতির পদ দখল করে আছে। কমিটির বয়স পাঁচ বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত সম্মেলন হতে দিচ্ছে না। এতে করে নতুন নেতৃত্ব প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বিএম আদনান খালিদ মিথুন গতকাল মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কীভাবে কারা আমার একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে তা আমি বলতে পারছি না। তবে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা আজ থেকে পাঁচ-ছয় বছর আগে শীতের সময় ধারণ করা ভিডিও। আমরা কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে জাস্ট কিউরিসিটির (কৌতূহলবশত) জায়গা থেকে এটা সেবন করে দেখেছিলাম। কিন্তু আমি মাদকসেবী নই। আমি যেকোনো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে আমাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হোক আমি কোনো মাদক সেবন করি কি না।’
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন না প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যে ভিডিওটি পেয়েছেন নিউজ না করে একটু অপেক্ষা করেন। আমি বরগুনার বাইরে আছি, আমি বরগুনা আসছি। আপনাদের সঙ্গে দেখা করব। যা প্রয়োজন আমি তাই করব, তবুও নিউজটি করবেন না। আমি বিকেলে বরগুনা আসছি।’
ছাত্রলীগ নেতা মিথুনের বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবন ও কারবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা গতকাল বলেন, ‘বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মিথুনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমি শুনেছি। এখনো ভিডিওটি দেখিনি। তবে বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদি এরকম কোনো ভিডিও থেকে থাকে ও মাদক সেবনের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’