ব্যাংকক থেকে রওশন এরশাদ আবার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। গত মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে এবার তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে একটি সাংগঠনিক আদেশ দিয়েছেন। আদেশে মসিউর রহমান রাঙ্গা, জিয়াউল হক মৃধাসহ দল থেকে এ পর্যন্ত অব্যাহতি, বহিষ্কার ও কমিটি থেকে বাদ দেওয়া নেতাকর্মীদের দলে ফিরিয়ে আনতে বলেছেন। তিনি চিঠির শেষ লাইনে লিখেছেন, ‘... দেশজুড়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত, বহিষ্কার ও নিষ্ক্রিয় করে রাখা সকল নেতাকর্মীদের এই আদেশ জারির পর হতে যার যার আগের পদ পদবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক’। এ নিয়ে গত ২০ দিনে ব্যাংকক থেকে তিনটি চিঠি পাঠালেন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। প্রথম চিঠি পাঠান ৩১ আগস্ট। সেখানে আগামী ২৬ নভেম্বর পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলন করার নির্দেশ দেন এবং সম্মেলনের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন। পরের চিঠি পাঠান ১০ সেপ্টেম্বর। সেখানে তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং শিগগির দেশে ফিরবেন বলে জানান। এর ১০ দিন পর গত মঙ্গলবার তিনি তৃতীয় চিঠি পাঠান।
এসব চিঠিতে রওশন এরশাদ একের পর এক নানা নির্দেশনা ও আদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো চিঠিই গুরুত্ব পাচ্ছে না দলে। আমলে নিচ্ছে না দলের নীতিনির্ধারণী মহল। এসব চিঠিকে ‘অবৈধ’ ও ব্যক্তিস্বার্থে ‘তৃতীয় পক্ষের কাজ’ বলে মনে করছেন শীর্ষ নেতারা।
এমনকি রওশন এরশাদের এসব চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রওশনপন্থি নেতাদের বিরুদ্ধে নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দল। রওশনকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা থেকে সরাতে দলের নেওয়া সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল না বলায় প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলের সব পদ হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। এর পরপরই জাপার চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি রওশন এরশাদের ডাকা সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য। রওশনপন্থি নেতাদের কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও দলের নেতারা জানিয়েছেন।
সর্বশেষ গতকাল পাঠানো রওশন এরশাদের চিঠিকেও আগের মতোই ভালো চোখে দেখছেন না জাপার মহাসচিব অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু। এ ব্যাপারে তিনি গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উনি (রওশন এরশাদ) উপদেষ্টা। পার্টিতে কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা তার নেই। উনি কীভাবে এসব আদেশ দেন, বলতে পারব না। ওনাকে দিয়ে কেউ এসব করাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে। উনি অসুস্থ। এসব চিঠি ও নির্দেশনা কোনো নিয়মের মধ্যে নেই। উনি আদেশ দিচ্ছেন, বলছেন সর্বময় ক্ষমতার মালিক এসব কী বলছেন, সেটা আমরাও বুঝতে পারছি না।’
সাংগঠনিকভাবে রওশন এরশাদ কোনো আদেশ দিতে পারেন না এবং সুযোগ নেই বলেও জানান মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘উনি (রওশন এরশাদ) আমাদের দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। অলঙ্কারিক পদ। সম্মান করে রাখা হয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারণী বোর্ড হলো প্রেসিডিয়াম। দলে কোনো নীতিনির্ধারণী ব্যাপারে প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন। চেয়ারম্যান সেটা কার্যকর করবেন। উনি কী বলছেন, সেটা তো আমাদের জ্ঞানের বাইরে।’
রওশন এরশাদের এসব কর্মকান্ডে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, ‘তার এসব কর্মকান্ডে দলের মধ্যে কোনো অস্থিরতা নেই, তবে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। দলে ও দলের বাইরে অনেকে জিজ্ঞেস করে, এসব কী হচ্ছে? কোনো উত্তর দিতে পারি না। এসব করে পার্টি-নেতাকর্মীর কাছে তার (রওশন) সম্মান-মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। উনি কারও স্বার্থ পূরণ করার জন্য এসব করছেন বোঝা যাচ্ছে।’