দুই মাসে এসেছে ৮৬ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিশ্রুত ৮৬ কোটি ৪২ লাখ ডলারের ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ কোটি ৮১ লাখ ডলার কম। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্থছাড় কমেছে ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে অর্থাৎ আগস্ট পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ সহায়তা পেয়েছিল ১১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

দেশের অর্থনীতির এ সংকটকালে বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ের পরিমাণ হঠাৎ করে নেতিবাচক ধারায় যাচ্ছে। অবশ্য এই দুই মাসে নতুন করে ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩০ কোটি ডলারের। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংকটকালীন বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থছাড়ের ধারা আগের চেয়ে কমেছে। গত বছর একই সময়ে অর্থাৎ আগস্ট পর্যন্ত এসেছিল ১১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

অন্যদিকে প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের দিকে চাপে আছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে একই সময়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের হার কমেছে ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রথম দুই মাসে ঋণ পরিশোধ করেছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ২ হাজার ৭৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে আগের নেওয়া ঋণ ও সুদের বিপরীতে ২৯ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশি টাকায় ২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

এ বছর প্রথম দুই মাসে অর্থ ছাড় কমেছে। কিন্তু নতুন প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। এসময় এসেছে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার ঋণের একটি চুক্তি হয়েছে অর্থবছরের প্রথম মাসে। গত বছরের প্রথম দুই মাসে ৭৩ লাখ ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ৯৩ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি মাসে ৮৩ কোটি ডলার করে ছাড় হতে হবে। সে অনুযায়ী দুই মাসে কমপক্ষে ১৬৬ কোটি ডলার অর্থছাড়ের কথা ছিল। কিন্তু আগস্ট পর্যন্ত অর্থছাড়ে বেশ পিছিয়ে আছে।

এ সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থছাড় হয়েছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। তাদের কাছ থেকে এসেছে ৩২ কোটি ৯১ ডলার। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থছাড় চীনের কাছ থেকে। এ দেশ থেকে অর্থছাড় হয়েছে ১৮ কোটি ৭১ লাখ ডলারের। এছাড়া আমেরিকার কাছ থেকে এসেছে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। এডিবির কাছ থেকে এসেছে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।

এর আগের অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থছাড় করেছিল বিদেশি অর্থায়নে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে মোট ১ হাজার কোটি ৮৩ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছে এডিবি। এরপর রয়েছে জাপান ও বিশ্বব্যাংক। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের অনুকূলে মোট ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার অর্থছাড় করেছিল।

২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭১০ কোটি (৭.১ বিলিয়ন) ডলার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ আসে। ওই বছর ৭৩৮ কোটি (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পাওয়া গিয়েছিল।

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসেছিল ৬৫৪ কোটি ডলার।