সংযোগ সড়কের অভাবে সেতু কাজে আসছে না

ঠিকাদারের গাফিলতিতে ভুগছে ১০ হাজার মানুষ

নির্ধারিত সময়ে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে এক বছরেও সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক করা হয়নি। ফলে সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কেঁয়াগড় ও সিংহরা গ্রামের মধ্যবর্তী সড়কে এ সেতুর অবস্থান।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের ওই দুই গ্রামের মধ্যে দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। কেঁয়াগড় গ্রামের লোকজন যাতে সহজে উপজেলা সদরে যেতে পারে আর সিংহরা গ্রামের লোকজন যাতে সহজে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারে, সে জন্য কয়েক বছর আগে সিংহরা স্কুল থেকে কেঁয়াগড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কের মাঝখানে ওঁমতারা খালের ওপর ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণের কাজ গেল বছর শেষ হয়। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। কাজটি পায় মেসার্স তাহিরা এন্টারপ্রাইজ। ইতিমধ্যে ঠিকাদার প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে সেতুর দুই পাশে মাত্র আধা কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় লোকজন সেতুটি ব্যবহার করতে পারছে না।

কেঁয়াগড় গ্রামের আহমদ আলী বলেন, বিভিন্ন কাজে তাদের প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ জন্য তাদের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। কিন্তু কেঁয়াগড় ও সিংহরার মধ্যে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কটি করা হলে মাত্র দুই কিলোমিটার পাড়ি দিলেই তারা সহজে চলে যেতে পারে উপজেলা সদর বা জেলা শহরে।

সিংহরা গ্রামের সাইফুল্লাহ, আশিষ নাথ ও নয়ন দত্ত বলেন, সিংহরা ও কেঁয়াগড়সহ আশপাশের গ্রামগুলো বেশ নিচু। বর্ষাকালে এসব গ্রামের জমি জোয়ারে তলিয়ে যায়। এ কারণে লোকজন সড়কটি ব্যবহার করতে পারে না। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করা হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. নুরুচ্ছাফা বলেন, ‘ঠিকাদারের গাফিলতিতে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেতুটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। নানা অজুহাত দেখিয়ে কাজ করছেন না ঠিকাদার। এতে দুই গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহিরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইসমাঈল বলেন, ‘সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও পানির কারণে উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করব।’

চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘ঠিকাদার ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ ঝুলিয়ে রেখেছে। যার কারণে সেতুটি মানুষের কোনো কাজে আসছে না। সড়কের কাজটি দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার বলার পরও কাজ হচ্ছে না।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী তসলিমা জাহান বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বারবার বলা হয়েছে। এরপরও ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েক দিন আগেও ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ করা না হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’