ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্তের পাশাপাশি করোনা মহামারী কাটিয়ে ওঠা ও এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই রক্তক্ষয়ী ও বিপর্যয়কর সংকটের অবসানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে মানুষকে গভীরভাবে আঘাত করছে, বিশেষ করে সরাসরি সংঘাতের সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এবং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত বিশ্বের মানুষকে বেশি আঘাত করছে।’
গত বুধবার গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ (জিসিআরজি) চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ছয় প্রস্তাব উত্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউক্রেনের যুদ্ধের অব্যাহত ও প্রসারণশীল প্রভাব এবং যুগপৎ অন্যান্য সংকট আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে এটি উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং আমাদের কভিড পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা ও এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অনেক নতুন চ্যালেঞ্জ যুক্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তবু কোনো একক দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বৈশ্বিক সংহতি। আমি এ বিষয়ে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট চিন্তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে বলেন, ‘বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বৈশ্বিক আর্থিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জি-৭, জি-২০, ওইসিডি, আইএফআই ও এমডিবিকে এখন তাৎক্ষণিক উদ্বেগগুলো মোকাবিলা করার প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এসডিজি অর্থায়নের অভাব, সীমিত আর্থিক সংস্থান, ক্রমহ্রাসমান ওডিএ এবং ঋণ পরিষেবা।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দ্বিতীয়ত মহাসচিব ব্ল্যাক সি গ্রেইন উদ্যোগ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আমরা আপনাকে সাধুবাদ জানাই। আমরা সংঘাতের সময় খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে ক্ষতির হাত থেকে দূরে রাখার জন্য ভবিষ্যতের যেকোনো উদ্যোগকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সাহসী ও ব্যাপক পদক্ষেপের প্রয়োজন এবং বিশ্ব বাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’
প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবে বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং কার্যকর খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে প্রযুক্তি সহায়তা, বর্ধিত ওডিএ এবং রেয়াতি অর্থায়নের লক্ষ্যে আমাদের আরও জি২জি ও বি২বি সহযোগিতার প্রয়োজন।’
পঞ্চমত শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু সহযোগিতার জন্য বৈশ্বিক কাঠামোকে আরও কার্যকর এবং ন্যায্য করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আসন্ন কপ-২৭-এর সুযোগটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উদ্বেগ নিরসনে কাজে লাগানো উচিত। আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে চাই যাতে সার্বিক উপায়ে জ্বালানি নিরাপত্তার সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়েজনীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি করা যায়।’
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবকে তার নিরন্তর প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, তার প্রচেষ্টায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগির এ ব্যাপারে একটি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যাবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সে লক্ষ্যে আপনার প্রচেষ্টা জোরদার করতে আপনার নির্দেশনার ওপর আস্থা অব্যাহত রাখব।’
প্রধানমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সামনে উত্থাপিত তিনটি নীতি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্দেশনা প্রদান করে এবং আমরা এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সঠিক নীতি বিকল্পগুলো সামনে আনতে অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলো বহুগুণে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। কৃষি, এমএসএমই এবং অন্যান্য দুর্বল খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা আমাদের জ্বালানি উৎসসমূহের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি।’
বাইডেনের অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্কে আসা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার পত্নী আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
নিউইয়র্কে হোটেল লটে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাইডেন ও তার পত্নী অনুষ্ঠানে তাকে (শেখ হাসিনা) উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।’
তিনি বলেন, এ সময় উভয় নেতা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সে ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেননি। মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে বাইডেনকে আমন্ত্রণ জানান।
কভিড-১৯ মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার কভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি আর্থিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াব তার অবস্থানস্থল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইউএনজিএর ৭৭তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ডব্লিউইএফের মধ্যে সহযোগিতা ভবিষ্যতে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
অধ্যাপক শোয়াব আগামী জানুয়ারিতে ডাভোসে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দ্বিপক্ষীয় বুথে স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহোরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সেøাভেনিয়ার মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে একই স্থানে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলারমো লাসোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। উভয় নেতা বাংলাদেশ ও ইকুয়েডরের মধ্যে সহযোগিতার দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
অন্যদিকে স্বল্পোন্নত দেশ, ল্যান্ডলক্ড ডেভেলপিং কান্ট্রিজ অ্যান্ড স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটসের (ইউএন-ওএইচআরএলএলএস) হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, ওএইচআরএলএলএস এলডিসি দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে যাতে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক সংকটের সময় কঠোর শর্ত আরোপ না করে সহায়তা করে।
রাবাব ফাতিমা প্রধানমন্ত্রীকে ২০২৩ সালের মার্চে দোহায় অনুষ্ঠেয় এলডিসি-৫ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
শেষে মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। নিক ক্লেগ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করেন। এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ও মেটার মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাব্য দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী একটি বড় ধরনের সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ঠেকাতে টেকসই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এএমআর এমন একটি সমস্যা যা সংকটে রূপ নিতে পারে। এর কারণে বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ প্রাণহানি হতে পারে। এটি প্রতিরোধে আমদের টেকসই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুতরাং এএমআর সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই।’
নিউইয়র্কে লেক্সিংটন হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার এএমআর বিষয়ে প্রাতঃরাশ বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের এই গ্রুপ থেকে বিষয়টিকে তুলে ধরার জন্য কাজ চলছে। কিন্তু এটি স্পষ্ট যে, এই ব্যাপারে আরও কিছু করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। আমাদের একটি ‘অভিন্ন স্বাস্থ্য পদ্ধতিতে’ স্থিত হওয়া প্রয়োজন।’
ইতিমধ্যে প্রায় ১৫০টি দেশের এএমআর বিষয়ে তাদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থপূর্ণ সহায়তা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় এএমআর গুরুত্ব পাওয়া উচিত এবং ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড পছন্দের হাতিয়ার হতে পারে।
এএমআরের জন্য বিশ্ব ও জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ পরিস্থিতি তৈরি করা দরকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এএমআরের দায়িত্ব ও প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ২০১৯ সাল থেকে গ্লাস প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করে আসছে। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের জড়িত হওয়া অত্যাবশ্যকীয় এবং একটি রোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন এএমআরের ভ্যাকসিন ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের অভাবকে উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ জন্য বেসরকারি খাতের যথাযথ প্রণোদনা প্রয়োজন।
কিছু জটিল প্যাথোজেনের জন্য এএমআরের বিকাশের ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই বিষয়ে সংগৃহীত প্রমাণ এবং তথ্য-উপাত্ত চোখ খুলে দেওয়ার মতো।
সরকারপ্রধান বলেন, এএমআর সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই এবং এজন্য নভেম্বরে বার্ষিক বিশ্ব সচেতনতা সপ্তাহ একটি উপযুক্ত উপলক্ষ। শেখ হাসিনা অভিমত দেন যে, এই সূচকগুলোর ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ মানব স্বাস্থ্য, প্রাণী স্বাস্থ্য, খাদ্য ব্যবস্থা এবং পরিবেশকে প্রভাবিত করে এমন এএমআর নীতি তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। বাসস
জাতিসংঘে পদ্মা সেতুর ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পদ্মা সেতুর ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন। তার উপ-প্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন জানান, গত বুধবার বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের লেভেল-১-এর আঁকাবাঁকা দেয়ালে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
মুন জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় জাতিসংঘের ইকোসক প্রেসিডেন্ট লাচেজারা স্টোভাসহ কয়েকজন বিদেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। কারণ এটি নির্মাণ করা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে আমাদের দোষারোপ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরে প্রমাণিত হয়েছে যে কোনো দুর্নীতি হয়নি।’
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সিনিয়র পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীটি ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। বাসস