সমাবেশে মোশাররফ

বিএনপিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না

আওয়ামী লীগ সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, গত ১৫ বছর অনেক চেষ্টা করেও বিএনপিকে দমাতে বা দুর্বল করতে পারেননি। দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যাদের নামে মামলা নেই। তবুও কেউই দল ছেড়ে যায়নি। বিএনপিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে এবং ঐক্যবদ্ধ থেকেই দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

লোডশেডিং, জ্বালানি তেল ও পরিবহন ভাড়াসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জের তিন নেতা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ৭ নম্বর জোন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ২টার কিছু সময় পর থেকেই সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন এবং লাঠি ও স্টাম্পে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা টানিয়ে খ- খ- মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি ও সরকারের বিরুদ্ধে সেøাগান দেন। সমাবেশস্থলের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ছিল বাড়তি উপস্থিতি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে সমাবেশে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনীকে বলতে চাই, আপনাদের চিহ্নিত করে রাখছি। বেশি দিন সময় নাই, জনগণের সামনে আপনাদের বিচার হবেই। আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, অনেক হয়েছে, আর নয়। আর একজন নেতাকর্মীর ওপরও হামলা করবেন না। যারা বলে বিএনপিকে রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায় না, তারাই ভয় পেয়ে আপনাদের বিএনপির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছেন। তারা নিজেরাই পালানোর জায়গা পাবে না। সুতরাং সাবধান হোন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলে বিএনপি নাকি নাই। বিগত দিনে খুন, গুম, হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোর পরও প্রতিটি সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। আজকে আওয়ামী লীগ কোথায়? তারা আমাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে পুলিশ পাঠিয়ে দিচ্ছে। আবার বলে বিএনপি নাকি সন্ত্রাস করে। আজকের এ সমাবেশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ আছে। পুলিশ ভাইয়েরা নিশ্চয়ই দেখছেন আমাদের নেতাকর্মীরা সমাবেশে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা করেনি।’

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে না। আওয়ামী লীগ লুটপাট করছে। তারা বিদেশে টাকা পাচার করছে। জনগণকে বঞ্চিত করেছে। তারা জনগণকে কিছুই দেবে না। তাই সরকারকে উৎখাত করতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপি নেতা নাজিমউদ্দিন আলম, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।