বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে এখন আনন্দের বাতাস বইছে। নারী ফুটবলে সাফ চ্যাম্পিয়নের তকমা। পুরুষ ফুটবলে দীর্ঘদিন পর জয়ের দেখা। এবার ক্রিকেটেও নারীদের হাত ধরে এলো বড় অর্জন। টানা পঞ্চম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত বাংলাদেশ নারী দলের। কাল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে জিতে এই স্বপ্ন সত্যি করেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের কঠিন পিচে লো স্কোরিং ম্যাচে ১১ রানের জয়ে নারী ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন সত্যি হলো। টস জিতে জ্যোতিদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৫ উইকেটে মাত্র ১১৩ রানে বেঁধে ফেলে থাইল্যান্ড। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি থাই নারীদের। নিজেরা আটকে গেছে ৪ উইকেটে ১০৩ রানে। অপর ম্যাচে জিম্বাবুয়ে নারী দলকে মাত্র ৪ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন আয়ারল্যান্ডের নারীরা। আগে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড ৬ উইকেটে ১৩৭ রান তোলে। জবাবে জিম্বাবুয়ে নারী দল ৬ উইকেটে ১৩৩ রানে থামে। এ জয়ের সুবাদে বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডও খেলবে ২০২৩ দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এবার অপেক্ষা ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়ার।
কাল শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেটে ব্যাট করা সহজ ছিল না। ধীর ও নিচু পিচে ছিল স্পিনারদের রাজত্ব। তাই থাইল্যান্ডের দুই অফস্পিনার রোশনান কানুহ ও ওনিচা কামচম্পু রাজত্ব করলেন বাংলাদেশ ব্যাটারদের ওপর। তাদের দুজনের চার ওভার থেকে এসেছে মাত্র ২৮ রান। একটি করে উইকেটও নিয়েছেন দুজন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় রানও আসেনি কারও ব্যাট থেকে। মুর্শিদা খাতুন ৩৫ বলে ২৬ ও রুমানা আহমেদ ২৪ বলে ২৮ রান করেন। এছাড়া ফারজানা হকের ১১, জ্যোতির ১৭ ও শেষদিকে রিতু মনির ১০ বলে ১৭ রানে একশ পার হয় বাংলাদেশের রান। এই ম্যাচে করোনা নেগেটিভ হয়ে খেলতে নামেন ওপেনার ফারজানা হক। আসর শুরুর আগে পজিটিভ হয়েছিলেন তিনি। ওই সময় হাতের আঙুলে চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাওয়া জাহানারা আলমের সঙ্গে ফারজানাকে দেশে পাঠানোর কথা ছিল। তবে তাকে দেশে না পাঠিয়ে পরবর্তী টেস্ট রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করে দল। কাল সুখবর নিয়েই খেলতে নামেন ফারজানা।
থাইল্যান্ডের ইনিংসে তাদের দুই বোলারের জবাব হয়ে যান সালমা খাতুন ও সানজিদা আক্তার মেঘলা। এ দুই স্পিনার ছিলেন আরও কৃপণ। সালমা শেষ ওভারে ১০ রান দেওয়ার আগে ৩ ওভারে দেন মাত্র ৮ রান। নিজের শেষ ওভারের শেষ দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন মোট ৩ উইকেট নেওয়া সালমা। আর মেঘলা ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। থাইল্যান্ডের নাথাকান চানতুম ৫১ বলে ৬৪ রান করে লড়লেও বাকিরা তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি।