আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে ঘৃণিত হবেন না। জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। একবার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২১ বছর ক্ষমতায় আসতে পারেননি। এবার যেই অত্যাচার-নিপীড়ন করছেন, এটা বন্ধ না হলে আর কত ২১ বছর লাগবে সেটা কে জানে। নূর হোসেন মারা যাওয়ার পর স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছে। এখন শাওন, নূরে আলম, আব্দুর রহিমকে হত্যা করেছেন। আপনাদের পতন হবে।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে মোহাম্মদপুর ৪০ ফুট মেইন রোডে ঢাকা উত্তর বিএনপির মোহাম্মদপুর জোনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে দেওয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল হক। সমাবেশে আমান বলেন, ‘সমাবেশ শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের ডিসি, এসি ও থানার ওসিদের ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে সমাবেশে এ ধরনের সহযোগিতা করবেন। জনগণের পক্ষে থাকবেন।’
সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে অংশ নেন। এ সমাবেশে অনেকেই বাঁশের লাঠি নিয়েও অংশ নিয়েছেন। বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে সমাবেশে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা লাঠিতে বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে রেখেছেন। এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা রাজি হননি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বলতে চাই সবাইকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করতে চাই। জনগণ ঠিক করবে কে ভালো, কে মন্দ, কাকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে, কাকে দেওয়া যাবে না। আপনারা এই সুযোগটা গ্রহণ করুন, ভুল করবেন না। তবে সন্দেহ হয়, ভালো কথা শোনার লোক তারা নয়।’
তিনি বলেন, ‘আগামী দিনের যে লড়াই, সেই লড়াইয়ে অবশ্যই আমরা জয়ী হব। বরাবর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে জনগণ আমাদের সঙ্গে ছিল, এবারও আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমাদের কর্মীদের খুন করা হচ্ছে, তাতে কি বিএনপির জনসভা বা আন্দোলনে জনগণের উপস্থিতি কম গেছে? লোক কমেছে? কমেনি কখনো, এটাই ইতিহাস।’
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিনা ভোটে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছেন। আপনারা চলে যান, পদত্যাগ করুন, এই সংসদ বাতিল করে দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করুন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে, তাদের মাধ্যমে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। তারা হবে জনগণের সরকার।’
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আজকে যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, তারা বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন চালের দাম কমপক্ষে ৫০ টাকা। ঘরে ঘরে চাকরি দেবে, কিন্তু রেকর্ড কী বলে, এই সরকারের দুঃশাসনের কারণে নতুন করে সরকার সমর্থক কয়েক হাজার কোটিপতি হয়েছেন। কিন্তু প্রায় চার কোটি দেশের মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন। এই দরিদ্র মানুষগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যখন আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি তখন সেই আন্দোলনে পুলিশ হামলা করছে।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়ালসহ উত্তরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।