ছয় মাসেও শুরু হয়নি স্মার্ট কৃষিকার্ড প্রকল্প

কৃষকদের ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি ও স্মার্টকার্ড দিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তবে প্রকল্পটি অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের ছয় মাস পার হলেও কাজই শুরু হয়নি। এতে প্রকল্প পরিচালকের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

দেশের ৫ কোটি কৃষকের মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখ কৃষককের ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি ও ১ কোটি ৯ লাখ কৃষককে স্মার্টকার্ড দিতে ‘স্মার্ট কৃষিকার্ড ও ডিজিটাল কৃষি (পাইলট) প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। ১০৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রকল্পটি চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে একনেকে অনুমোদিত হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে। গত ২৫ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ৪৫টি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা করে। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রকল্পের গতি বেগবান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

সভাসূত্রে জানা যায়, ৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে অগ্রগতি শূন্য এমন প্রকল্পের মধ্যে এটিও রয়েছে। চলতি বছরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও কোনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মোহা. আজম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়।’ প্রকল্পটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ ১৪টি কৃষি অঞ্চলের দেশের ৯টি জেলার ও মেট্রোপলিটন এলাকার এক কোটি কৃষককে স্মার্ট কৃষিকার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা নেওয়ার সময় কৃষককে এ কার্ড দেখাতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিতে সরকারের সার, বীজসহ যত ধরনের সুবিধা আছে, স্মার্টকার্ড দেখিয়ে সেসব সুবিধা নিতে হবে কৃষকদের।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হচ্ছে, কৃষকের ডিজিটাল পরিচিতি হিসেবে স্মার্ট কৃষিকার্ড ব্যবহার করে প্রত্যেক কৃষকের জন্য এলাকা ও চাহিদাভিত্তিক কৃষিসেবা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ডিজিটাল বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কৃষিতথ্য নিশ্চিত করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল কৃষি প্রোফাইল তৈরি, স্মার্ট কৃষিকার্ড বিতরণ, ডিজিটাল কৃষিতথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের সাহায্যে কৃষকের কৃষি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

প্রকল্পটির অর্থায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১০৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রকল্প প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স্মার্টকার্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ ১৪টি কৃষি অঞ্চলের ৯টি জেলা যেমন গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, বরিশাল, যশোর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বান্দরবান ও ময়মনসিংহ জেলার সব উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

এতে আরও দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় কৃষি বাতায়নে ১ কোটি ৬২ লাখ কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল প্রস্তুত করা হবে। ১ কোটি ৯ লাখ কৃষকের হাতে স্মার্ট কৃষিকার্ড দেওয়া হবে। ১ কোটি কৃষকের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নাগরিকত্বের তথ্য যাচাই করা হবে। ৩১টি মডিউলে স্মার্ট কৃষিকার্ড ডেটাবেইস ক্লাস্টার, কৃষক সেবা, রিপোর্টিং সফটওয়্যার ও অ্যাপস প্রস্তুত করা হবে। ডিজিটাল কৃষি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে টিওটি প্রশিক্ষণ, অফিসার প্রশিক্ষণ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ, আইসিটি চ্যাম্পিয়ন কৃষক বা কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৪টি কৃষি উদ্ভাবন শোকেসিং করা হবে এবং ৩টি জাতীয় ও ১৪টি আঞ্চলিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে।