আফ্রিকার সুফিদের সর্ববৃহৎ সমাবেশ ‘গ্র্যান্ড মাগাল’

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলদের জন্য অবশ্য পালনীয় বা ফরজ হলো হজ। হজের পর মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলোর মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার কথা প্রায় সবারই জানা। কিন্তু আফ্রিকাতেও মুসলিমদের বিশাল এক ধর্মীয় সমাবেশের কথা হয়তো অনেকের অজানা। ইসলামের সুফি ঘরানার এই ধর্মীয় সমাবেশের নাম ‘গ্র্যান্ড মাগাল’। মাগাল শব্দের বেশ কিছু অর্থ আছে; যেমনÑ শ্রদ্ধা নিবেদন, উদযাপন, আল্লাহর মহত্ব স্বীকার এবং ঘোষণা করা। গ্র্যান্ড মানে বিশাল সাধারণভাবে গ্র্যান্ড মাগাল হলো বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ। দাবি করা হয় এই মাগালে হজের চেয়েও বেশি লোকের সমাগম ঘটে। তবে এটা স্বাভাবিক, কারণ হজ করার সামর্থ্য সবার থাকে না। আফ্রিকার সেনেগালের ‘মুরিদ ব্রাদারহুড’ মাগালের মূল আয়োজক। আরবি বর্ষপুঞ্জির দ্বিতীয় মাস অর্থাৎ সফর মাসে এই বৃহৎ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর এই সময়ে সেনেগালের তুবা শহরে নানা বর্ণিল পোশাকে সমবেত হন ‘মুরিদরা’। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এরা কার মুরিদ। এ প্রশ্নের উত্তরে আসে গ্র্যান্ড মাগালের সুচনা করা আধ্যাত্মিক নেতা আমাদু বামবার প্রসঙ্গ। ১৮৫৩ সালে সেনেগালেই জন্ম বামবার, দেশটি তখন ফ্রান্সের উপনিবেশ। ১৮৮৭ সালে তার মাধ্যমে তুবা শহর পবিত্র নগরী হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে। মুসলিমদের শেষ নবী ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ এবং সেনেগালের স্থানীয় সংস্কৃতির মিশেলে সুফিবাদের চর্চা শুরু করেন বামবা। তার জনপ্রিয়তায় শঙ্কিত হয়ে ফরাসিরা তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে এবং আফ্রিকার আরেকটি দেশ গ্যাবনে পাঠিয়ে দেয়। ৭ বছর পর আবারও দেশে ফিরে আসেন এবং ক্রমবর্ধমান মুরিদসহ তিনি আবারও আগের মতো সক্রিয় থাকেন। আবার তাকে দেশান্তরে বাধ্য করে ফ্রান্স, এবার পাঠানো হয় মৌরিতানিয়ায়। সেখান থেকে চার বছর পর ১৯০৭ সালে নিজ দেশে ফিরে আসেন বামবা। তবে এখানে তাকে আমৃত্যু গৃহবন্দি থাকতে হয়। ১৯২৭ সালে তার মৃত্যুর আগেই তুবা শহরে সুবিশাল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়, এটাই আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ। মৃত্যুর পর বামবাকে মসজিদ প্রাঙ্গণেই কবর দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার মুরিদরা প্রতি বছর তার গ্যাবন সফরকে স্মরণ করতে গ্র্যান্ড মাগালে সমবেত হন।