পাওনা টাকা আদায়ের জন্য জামালপুরে এক রিকশাচালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সকালে জামালপুর পৌর শহরের পলিশা তুলসী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার রিকশাচালক ওই দিন রাতেই মামলা করার পর নির্যাতনে জড়িত অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মারধরের শিকার মো. কালাম শেখ (৪২) সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পলিশা খালপাড় এলাকার মৃত আবদুল খালেক শেখের ছেলে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাবের তাড়নায় তিন মাস আগে প্রতিবেশী কছর উদ্দিনের ছেলে মো. হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন রিকশাচালক মো. কামাল। কিন্তু সময়মতো টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হন। পরে হাফিজুরের কাছ থেকে টাকা পরিশোধের জন্য নতুন করে সময় নেন কামাল। কিন্তু টানাটানির সংসার চালাতে গিয়ে সে সময়ও চলে যায়। ধারের এই টাকা পরিশোধের বিষয়ে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের সালিসে বসার কথা ছিল। কিন্তু হাফিজুরের বড় ভাই কামাল হোসেন সালিসের আগে কামালকে পেটাতে বলেন হাফিজুরকে। পরে হাফিজুর কামালের বাড়ির পাশে মুদিদোকানে বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কামাল রিকশা চালানোর পাশাপাশি বাবুর্চির খণ্ডকালীন কাজও করে থাকেন। ঘটনার দিন কামালকে প্রতিবেশী একজন খিচুড়ি রান্না করে দিতে বলেন। কামাল সেই রান্নার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় হাফিজুর ও তার ভাই মুন্সি এবং ভাতিজা বিপুল মিয়া কামালকে মেহগনিগাছের সঙ্গে বেঁধে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন। খবর পেয়ে কামালের স্ত্রী এবং শিশুপুত্র মোখলেছুর রহমান অন্তর ও মোস্তাফিজুর রহমান তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে কামালের স্ত্রী প্রতিবেশী মাহবুবুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করে স্বামীকে বাঁচানোর আকুতি জানান। মাহবুবুর পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কামালকে উদ্ধার করে।
নির্যাতনের ঘটনায় কামাল বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই মামলা করেন। আসামিরা হলেন কামাল হোসেন (৫৫), হাফিজুর রহমান (৫২) এবং তার ভাই মুন্সি (৪৮) ও ভাতিজা বিপুল মিয়া। তাদের মধ্যে কামাল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
কামাল শেখের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্বামীকে মারধরের খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে আমি ও দুই ছেলে যাই। পরে তাকে (কামাল শেখ) মারধর করা বাদ দিয়ে ওই বাঁশ দিয়ে তারা আমাদের মারধর করে। আমাকে ও দুই ছেলেকে অনেক মারধর করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামালপুর সদর থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, ‘গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই রিকশাচালককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’