ক্রীড়াঙ্গনে সুখবরের তালিকা আরও বাড়ল। আরব আমিরাত থেকে একসঙ্গে এলো দুই জয়ের খবর। ফুটবলের পর এবার ক্রিকেটে। আবুধাবিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ওদিকে দুবাইয়ে আরব আমিরাতকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে পুরুষ ক্রিকেটে স্বস্তির জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই জয়ই এসেছে সমান ৭ রানে।
টি-টোয়েন্টিতে পায়ের নিচের মাটি খুঁজে পেতে একটি জয়ের দূরে ছিল বাংলাদেশ। কাল দুবাইতে আরব আমিরাতের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত জয় এলো ঠিকই। তবে প্রশ্ন থাকছে তা কতটা স্বস্তির? আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের ৫ উইকেটে ১৫৮ রানের পুঁজিটা যে ছুঁয়েই ফেলেছিল স্বাগতিকরা। শেষ দুই ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্যাচ মিসে হারের ভয় জাগে। তবে এ দুই ফিল্ডারেরই পরপর দুই ক্যাচে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। শরিফুল ইসলামের হ্যাটট্রিক সুযোগটাও টিকে থাকল। আরব আমিরাতকে ১৫১ রানে অলআউট করে ৭ রানের জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজেও এগিয়ে রইল সফরকারীরা।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। মেরে খেলার ‘ইন্টেন্টে’ ছিলেন সব ব্যাটার। কিন্তু ভুল শটে একের পর এক আউট। শেষে আফিফ হোসেনের কার্যকরী ইনিংসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচা। ইনিংসে দুবার জীবন পেয়েছেন আফিফ। একবার ৬২ রানে আর অপরটি ইনিংসের শুরুতে। এ দুই হোঁচট বাদে কাল দুবাইয়ে আরব আমিরাতের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দ ব্যাটিং করে গেলেন এই বাঁহাতি। পেলেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস, দল পেল স্বস্তির সংগ্রহ।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন কিছু করার চিন্তায় নতুন শুরু করে বাংলাদেশ। এই দলে নেই অভিজ্ঞদের কেউ। পুরো ভরসা তাই নতুনদের ওপর। আরব আমিরাতে প্রস্তুতি করতে চেয়ে বাড়তি পাওয়া এই সিরিজে নিজেদের নানা পরিকল্পনা দেখে নেওয়াই বাংলাদেশের উদ্দেশ্য। সেখানে পরিকল্পনাটা অবশ্য পুরনো। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের মতোই সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ওপেন করেন। ভালো হয়নি মোটেই। সাব্বির এবারও মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে ফ্লিক করে চার মারার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ম্যাচের মতো এবার প্রথম বলে চার পাননি উল্টো আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান। এক বল পর গুডলেন্থের বলে পুল করে মিডউইকেটে ধরা পড়েন। প্রথম থেকেই মেরে খেলার ইচ্ছেটা ছিল সাব্বিরের কিন্তু সফল হননি। একই রকম ব্যর্থ অপর ওপেনার মিরাজ। শুরু থেকেই তার ব্যাটে বল লাগছিল না ভালোভাবে। পরে ১৪ বলে ১২ করে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে অহেতুক শটে ক্যাচ আউট হন। সাকিব আল হাসানের জায়গায় দলে ফেরা লিটন দাশ নামেন তিনে। ৮ বলে ৩ চারে ১৩ করা লিটন দারুণ শুরু পেয়েছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত শট খেলার মানসিকতায় ভুল শটে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। লিটন ফেরা পর্যন্ত পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪২ রান তোলে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বদলে দলে সুযোগ পাওয়া ইয়াসির আলিও ৪ রানে বোল্ড হন মারাত্মক ভুলে। লেগ স্পিনার মিয়াপ্পানের বলে শট নিয়ে তার ব্যাট-পায়ের কোনো সমন্বয়ই ছিল না। একই বোলারকে সামনে বেড়ে খেলতে গিয়ে মাত্র ৩ রানে পরাস্ত হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও।
১০ ওভারে ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন স্বল্প রানে আটকে যাওয়ার শঙ্কায় ভুগছিল বাংলাদেশ। ওই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলেন আফিফ-সোহান। ৫৪ বলে অপরাজিত ৮১ রান তাদের। পুরো ইনিংসটাই টেনে নিয়ে আসেন আফিফ। পাওয়ার হিটে তিনটি ছক্কা ও সাত চারে ৫৫ বলে করেন অপরাজিত ৭৭। ১৪০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারসেরা। ২টি করে ছক্কা ও চারে আফিফকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন ২৫ বলে অপরাজিত ৩৫ করা সোহান। তার স্ট্রাইকরেটও ১৪০। দুজনের ব্যাটে ইনিংসে ৫ ছক্কা পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারে আসে ৫৫ রান।
বোলিংয়ে মিরাজ ও শরিফুল ছিলেন আপ টু দ্য মার্ক। দুজনই ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন ওভারপ্রতি ৬ রানের কাছাকাছি খরচ করে। এছাড়া মোস্তাফিজ নিয়েছেন ২টি উইকেট। বাজে বোলিংটা ছিল সাইফউদ্দিনের। ৪ ওভারে ৪০ রান খরচ করেছেন। পাওয়ার প্লে ও ডেথ ওভারে কাজ করার আছে আরও। দুই সময়েই ১০ রানের বেশি খরচ হয়েছে একাধিক ওভারে। এমনিতে শুরু ও শেষের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় জয়ের কাছেই চলে যায় আরব আমিরাত। ওপেনার চিরাগ সুরি ২৪ বলে ৩৯ ও নিচের দিকে আয়ান আফজাল ১৭ বলে ২৫ রান করেন।
কাক্সিক্ষত জয় এসেছে ঠিকই। তবে আরব আমিরাতের সঙ্গে ম্যাচটি এত ক্লোজ হওয়া বাংলাদেশের জন্য ব্যর্থতা। এর আগে ২০১৬ এশিয়া কাপে একবারই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেবার ৫১ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। চলতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওই রকম একটি জয় নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া হবে বাংলাদেশের জন্য।