দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই শিশুখাদ্যের দামও লাফিয়ে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে কোম্পানিভেদে গুঁড়োদুধ ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বেড়েছে অন্তত ২০ টাকা। গত দেড় মাসে সর্বোচ্চ বেড়েছে ৭০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত তিন মাস ধরে গড়ে প্রতি মাসে একবার করে শিশুখাদ্যের দাম বেড়েছে। তারা বলছেন, কোম্পানি দাম বাড়ালে তাদের তো কিছু করার নেই।
গতকাল রবিবার মহাখালী ও আশপাশ এলাকার দোকান ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে মানভেদে সব ধরনের শিশুখাদ্যে ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। ৩৫০ গ্রামের ল্যাকটোজেনের কৌটা (চার বছর বয়সীদের উপযোগী) এখন ৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিল ৪৭০ টাকা। দেড় মাস আগে ৩৭০-৩৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা।
নিডো (৩-৫) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা। যা এক মাস আগেও ছিল ৩৭৫, নিডো (১-৩) গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৭০, নান ৮৯০ টাকা, যা দেড় মাস আগে ছিল ৮৬০; বায়োমিল(১) ৫১০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৯০। ল্যাকটোজেন (২) এক সপ্তাহে ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫২০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ টাকা বেড়ে কমপ্লেন বিক্রি হচ্ছে ৩৭৫ টাকা। বেবিকেয়ার ৭০০, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬৭০ টাকা। মাদারপ্লাস এক সপ্তাহ আগের দাম ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ টাকার হরলিক্স সপ্তাহের ব্যবধানে ৪২০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
মহাখালী স্টোরের স্বত্বাধিকারী জাহিদুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চার মাস আগে ৩৩০ টাকায় বিক্রি করা হরলিক্সের দাম বেড়ে এখন ৪২০ টাকা। একইভাবে সব ধরনের শিশুখাদ্যের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে করে আমাদের বিক্রি অনেক কমেছে।’
খোকন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিনের পর দিন সব পণ্যের দাম বাড়ছে। সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলো সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না বলেই আজকের বাজার পরিস্থিতির বেহাল অবস্থা।’
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টিম সবসময় মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বাইরেও আরও ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। তারা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করলে ভোক্তা হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে বলে বিশ্বাস করি।’
বনানীর একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন শ্যামলীর বাসিন্দা আশরাফ হোসেন। বাসায় যাওয়ার পথে মহাখালী বাজারে এসেছেন তার দেড় বছরের ছেলের জন্য ল্যাকটোজেন ও সেরিলাক কিনতে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ দুই শিশুখাদ্যের বাড়তি দেখে অবাক হন তিনি। জানতে চাইলে আশরাফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাচ্চার পুষ্টি ঘাটতি মেটাতে এ বাড়িত খাবার। কিন্তু দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে কতদিন সেরিলাক বা ল্যাকটোজেন খাওয়াতে পারব, সেটাই ভাবছি।’
আকলিমা খাতুনের মেয়ে লাবিবার বয়স চার বছর। তার জন্য তিনি প্রতি মাসে গুঁড়োদুধ বা হরলিক্স জাতীয় খাবার কেনেন। আকলিমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিত্যপণ্যের পাশাপাশি শিশুখাদ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আমরা অনেক সমস্যায় পড়েছি। আগে মাসে হাজার দুই-একের মধ্যে বাচ্চার খাবারের খরচ হয়ে যেত। কিন্তু এখন এক হাজার টাকার বেশি বাড়তি লাগে। গত কয়েক মাসে সংসার খরচ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ আয় বাড়েনি।’