পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি

করতোয়ায় নতুন জীবন ফিরে পেলেন তারা

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ শুরু করছে রংপুর থেকে আসা ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপেই নৌকাটি ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা।

নৌকাডুবির পর সাঁতরে নদীর তীরে ফিরে আসেন দিপু নামের এক যুবক।

তিনি বলেন, আমরা মহালয়া দেখার জন্য যাচ্ছিলাম। নদীর মাঝখানে যাওয়ার পর হঠাৎ করে নৌকা দুলতে থাকে। তারপর আমি নিচে পড়ে যাই। কিছুক্ষণ আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। তারপর সাঁতার কাটলাম। আমি আমার নিজ হাতে তিনটা মরদেহ উদ্ধার করেছি। আরও কয়েকজনকে বাঁচিয়েছি। ১০০ জনেরও বেশি লোক আমরা নৌকায় ছিলাম।

আরেক যাত্রী তুরেন বলেন, নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি। নৌকাওয়ালা অতিরিক্ত লোক নেওয়ার কারণে এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল আজ। আমার কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনকে এখনো খুঁজে পাইনি।

এদিকে রবিবার উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো শনাক্তকরণের পর স্বজনদের কাছে রাতেই হস্তান্তর কর হয়েছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, এ জেলার ইতিহাসে ভয়াবহ নৌকাডুবি এটি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা খরচ বহন করছে।

রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটে।

পরে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

সোমবার সকাল ছয়টায় আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরও পাঁচজনের মরদেহ নদীর ১০/২০ কিলোমিটার ভাটিতে এসব মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, মহালয়া উপলক্ষে দুপুরে বোদা, পাঁচপীর, মাড়েয়া, ব্যাঙহারি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় করে বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন। প্রায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাটি মাঝ নদীতে উল্টে যায়।