স্বজনের খোঁজে করতোয়ার পাড়ে শত শত মানুষ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এখনও অর্ধশতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

নিখোঁজদের খোঁজে নদীর পাড় ভিড় করছেন স্বজনেরা। এ সময় প্রিয়জনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে নদীপাড়ের বাতাস।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই সুগন্ধা নদীপাড়ে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। শ্যালকের খোঁজে করতোয়ার তীরে অপেক্ষমাণ দুলাভাই গ্রি বাবু। তিনি জানান, মধ্যরাত অবধি করতোয়ার তীরে অপেক্ষা করে গিয়ে ভোরে আবারও এসেছেন করতোয়া পাড়ে। কিন্তু হিমালয়ের খোঁজ মেলেনি।

কেউ কেউ নৌকা নিয়ে নদীতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনকে। কারও হাতে নিখোঁজদের ছবি, তা নিয়ে নদী তীরের বাসিন্দাদের দেখাচ্ছেন আর বিলাপ করছেন। 

এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা প্রশাসনের কাছে ৬৬ জনের তালিকা দিয়েছেন।

ভোর করতোয়ার তীরে স্বজনদের খুঁজতে এসেছেন মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের গেদীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব রায় (৫০)। তিনি বলেন, তার দুই কাকি, মামাসহ আট স্বজন নিখোঁজ রয়েছেন। এসময় তিনি ছবি দেখিয়ে বিলাপ করে বলছিলেন, তাদের ডেন খোঁজে বের করা হয়।

তারই মতো পাঁচপীর গ্রামের জগদীশ রায় তার এক বন্ধু, বেহাই, ভাতিজি, জামাইসহ ৯ জন নদী পার হচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে ভাতিজির লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু অন্যদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। করতোয়া পাড়ে এসেছেন তাদের খুঁজতে।

কেউ স্বজনের খোঁজে অপেক্ষা করছেন। কেউ আবার মৃত পরিবারের সদস্যের জন্য আহাজারি করছেন। পুরো নদীপাড় জুড়ে শোকের মাতম চলছে।

প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়ার আশায় জগেশ রায়, প্রদীপ চন্দ্রসহ কয়েকজন নৌকা নিয়ে নদীতে চষে বেড়াচ্ছেন। নিখোঁজদের ছবি নদীতীরের বাসিন্দাদের দেখাচ্ছেন আর বিলাপ করছেন। নিখোঁজদের সম্পর্কে কোনো ধারণাই দিতে পারছেন না দুর্ঘটনাস্থলের তীরের মানুষেরা।

বিয়ে হয়েছে মাত্র দেড়মাস। বধূটির হাতে মেহেদির রং। তখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। নববধূ বন্যা তীরে উঠলেও স্বামী হিমালয়ের খোঁজ নেই। স্বামী হারিয়ে পাগলপ্রায় বন্যা। 

ষাটোর্ধ কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই ও তার ভাতিজার খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি জানান, নদীর অপরপাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাতিজা সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নৌকাডুবির খবরে কাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষা করছেন তিনি।

নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। তিনি বলেন, নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।

এদিকে, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।