কল ড্রপে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহক

এখন থেকে একই অপারেটরে কথা বলার সময় প্রথম কল ড্রপ হলেই গ্রাহক ক্ষতিপূরণ পাবেন। কল ড্রপে ক্ষতিপূরণ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নতুন নির্দেশনায় প্রতিদিন প্রথম ও দ্বিতীয় কল ড্রপের প্রতিটির ক্ষেত্রে ৩০ সেকেন্ড বা ৩টি পালস (১০ সেকেন্ডে ১ পালস) ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্রাহককে দিতে হবে। এ নির্দেশনা অননেট কল ড্রপের জন্য, যা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর রমনায় বিটিআরসি কার্যালয়ে কল ড্রপ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনলাইনে যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্ষতিপূরণটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গ্রাহক যেন নির্বিঘœ সেবা পায়, সে উদ্দেশ্যেই এ নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। অপারেটররা যেন সেবার মান বাড়িয়ে ক্ষতিপূরণ থেকে রেহাই পান, বিটিআরসি সেটাই চাচ্ছে।

বিটিআরসির নতুন নির্দেশনায় গ্রাহক এখন থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় কল ড্রপের ক্ষেত্রে প্রতিটি কল ড্রপের জন্য ৩০ সেকেন্ড এবং তৃতীয় থেকে সপ্তম কল ড্রপের বেলায় প্রতিটির জন্য ৪০ সেকেন্ড টকটাইম ফেরত পাবেন। কল ড্রপ নিয়ে সব মোবাইল ফোন অপারেটরের জন্য অভিন্ন ইউএসএসডি কোড *১২১*৭৬৫# ডায়াল করে একজন গ্রাহক জানতে পারবেন তার আগের দিন, সপ্তাহ বা মাসিক অননেট কল ড্রপের পরিমাণ কত। কল ড্রপের ফলে পাওয়া কল মিনিট পরবর্তী দিনের প্রথম কল হতে ব্যবহারযোগ্য হবে। ফেরত পাওয়া মিনিট পুরোপুরি ব্যবহার শেষ হওয়ার আগে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো টাকা কাটা যাবে না। এ ছাড়া কল ড্রপের জন্য ফেরত দেওয়া টকটাইমের বিষয়ে গ্রাহককে এসএমএস করে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান। কল ড্রপ নিয়ে বিশদ উপস্থাপনা দেন বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ।

নাসিম পারভেজের উপস্থাপনায় বলা হয়, কোনো অপারেটর চাইলে কল ড্রপ হওয়ার দিন থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে। কল ড্রপের ফেরত প্রাপ্ত টকটাইমের মেয়াদ হবে ১৫ দিন।

বিটিআরসি বলেছে, ১০০ সেকেন্ড কল ড্রপের জন্য অপারেটররা ৩০৯ দশমিক ৪৪ সেকেন্ড ক্ষতিপূরণ দেবে। বিটিআরসির নতুন এ নির্দেশনা শুধু একই অপারেটরের মধ্যে কল ড্রপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিটিআরসি জানিয়েছে, অন্য অপারেটরে ভয়েস কলের ক্ষেত্রে তিনটি পক্ষ কাজ করে। কল ড্রপের জন্য কোন পক্ষ দায়ী, তা খুঁজে বের করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংস্থাটি কাজ করছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, গ্রামীণফোন ও রবি তৃতীয় থেকে সপ্তম কল ড্রপ পর্যন্ত গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। অন্যদিকে বাংলালিংক দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ কল ড্রপ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়।

বিটিআরসি তিনটি অপারেটর থেকে তথ্য নিয়ে কল ড্রপের পরিমাণ বিশ্লেষণ করেছে। গত মে মাসে বিভাগ অনুসারে গ্রামীণফোনের কল ড্রপের পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ, রবির ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং বাংলালিংকের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।

মে মাসের তথ্য দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, এক থেকে সাতবার পর্যন্ত কল ড্রপের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ৯৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং একবার কল ড্রপের পরিমাণ ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এক থেকে সাতবার কল ড্রপ গ্রামীণফোনে সবচেয়ে বেশি এবং একবার কল ড্রপ বাংলালিংকে বেশি হয়।

কল ড্রপের বিষয়ে টেলিটকের কোনো তথ্য জানায়নি বিটিআরসি। তাদের কাছ থেকে পরে তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার জানান, নতুন নির্দেশনা টেলিটকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সরকারি এই অপারেটরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আছে। তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য একটু সময় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সক্ষমতার তুলনায় কিছু কিছু এলাকায় গ্রাহক বেশি হওয়ায় কল ড্রপ বেশি হচ্ছে উল্লেখ করে সেসব জায়গায় সক্ষমতা বাড়াতে অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।