কেমিক্যাল বিস্ফোরণে নিহত ১

ড্রামে থাকা দাহ্য পদার্থের কথা জানত না শ্রমিকরা

রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার বালুর মাঠ বেড়িবাঁধ এলাকায় ‘মেট্রো এক্সপ্রেস’ নামের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের মালামাল নামানোর সময় বিস্ফোরণে মো. ইলিয়াস (২২) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও তিনজন। তাদের মধ্যে একজনের পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাভার্ড ভ্যানে থাকা দাহ্য কেমিক্যালের কথা জানত না বলে জানিয়েছে শ্রমিকরা। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত কুরিয়ার সার্ভিসের কাউকে আটক করেনি পুলিশ। কোনো মামলাও হয়নি। তবে যাদের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন হাজারীবাগ থানার ওসি মো. মোক্তারুজ্জামান। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুরিয়ার সার্ভিস অফিসের ভেতরে কেমিক্যালের ড্রাম বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এখনো কুরিয়ার সার্ভিসের কাউকে আটক করা হয়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

নিহত ইলিয়াসের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার মূত্রদিঘী গ্রামে। ঢাকায় ওই কুরিয়ার সার্ভিসের মেসে থাকতেন তিনি। এ ঘটনায় আহতরা হলেন দিলীপ, আব্দুল হালিম ও মারসেল ট্রুডু। তাদের মধ্যে আব্দুল হালিম ও মারসেল ট্রুডুকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। হালিমের অবস্থায় গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আর পা বিচ্ছিন্ন হওয়া দিলীপকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, হালিমের শরীরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া তার মাথা, মুখমন্ডল, বাম হাতসহ শরীর ও দুই পায়ে আঘাত রয়েছে। আর মারসেলে দুই পায়ে ও ডান হাতে আঘাত রয়েছে। বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে দিলীপের।

আহত মারসেল জানান, মেট্রো এক্সপ্রেস নামে কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি। রাতে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে মালামাল নামিয়ে অফিসের ভেতরে রাখছিলেন তারা। ড্রামগুলো দিলীপ ও ইলিয়াস নামিয়ে অফিসের ভেতর রাখার মুহূর্তেই বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইলিয়াস। দিলীপসহ পাশে থাকা হালিম ও তিনি আহত হন।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুস শহীদ জানান, কাভার্ড ভ্যানটিতে ৫টি ড্রামে ১০০ লিটারের মতো ইথাইল পারঅক্সাইড ছিল। এগুলো মানব শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। গুলশান থেকে আনা হয়েছিল এ ড্রামগুলো। যাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামে। 

তিনি বলেন, এ ধরনের কেমিক্যাল রাখার জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে। তাদের অনুমোদন ছিল কি না তা জানা সম্ভব হয়নি। কারণ ঘটনার পর থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের সকলে আত্মগোপনে চলে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘মেট্রো এক্সপ্রেস’ নামের কুরিয়ার সার্ভিসের টিনশেডের ওই গুদামটিতে রাতদিন মালামাল রাখা ও বের করা হয়। ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কয়েক শিফটে কাজ করেন। ঘটনার সময় অন্তত ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

নাম প্রকাশ না করে এক শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুধু মালামাল গাড়ি থেকে গোডাউনে নামাই আর উঠাই। কী মালামাল তা আমাদের কখনোই জানানো হয় না।’ 

এ বিষয়ে ‘মেট্রো এক্সপ্রেস’ কুরিয়ার সার্ভিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. শাহদাত হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফোনে মেসেজ পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি। পরে মোহাম্মদপুরের মেইন ডিপোতে ফোন করলে দায়িত্বরত কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।