পৃথিবী রক্ষার পরীক্ষায় সফল নাসা

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে গ্রহাণু, ঘটতে যাচ্ছে মহাপ্রলয়! এ রকম আশঙ্কার খবর মাঝে মাঝেই আসে বিশ্বগণমাধ্যমে। সত্যিই যদি এমন গ্রহাণু বা অ্যাস্টোরয়েড পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে পারে তখন সেটিকে মহাকাশেই ধ্বংস করা ছাড়া উপায় নেই। গ্রহাণু ধ্বংসের মিশন নিয়ে ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া আর্মাগেডন সিনেমাটি তো রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল সে সময়। কল্পনা আর সিনেমায় গ্রহাণু ধ্বংসের মিশনকে বাস্তব প্রমাণিত করল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)। গ্রহাণু ধ্বংসের পরীক্ষায় সফল হয়েছে সংস্থাটি। শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে ছুটে গিয়ে পৃথিবী থেকে ৬৮ লাখ মাইল দূরের এক গ্রহাণু পিণ্ডকে সফলভাবে আঘাত করেছে নাসার ‘ডার্ট মহাকাশযান’। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনো গ্রহাণু হুমকি তৈরি করলে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা মেরে এর গতিপথ বদলে দেওয়া যায় কিনা এটি দেখতেই এই পরীক্ষা চালানো হয়। গ্রহাণু ঠেকাতে এ রকম পরীক্ষা এবারই প্রথম। পরীক্ষার জন্য যে গ্রহাণুটি বেছে নেওয়া হয় সেটির নাম ডাইমরফোস। গ্রহাণুটি মোটামুটি ১৬০ মিটার চওড়া, বলা যায় ফুটবল মাঠের সমান। যদিও   ডাইমরফোসের গতিপথ পৃথিবীর দিকে ছিল না, কেবল পরীক্ষার জন্যই বিজ্ঞানীরা এ গ্রহাণুকে বেছে নেন। এজন্য ১০ মাস আগে পৃথিবী থেকে রওনা দেওয়া নাসার ‘ডার্ট’ গত সোমবার ওই গ্রহাণুর গায়ে আছড়ে পড়ে এবং ধ্বংস হয়ে যায়। গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ডার্টের গায়ে বসানো ক্যামেরা প্রতি সেকেন্ডে একটি করে ছবি পাঠাতে থাকে পৃথিবীতে। পুরো দৃশ্য নাসার মিশন অপারেশন সেন্টার থেকে সরাসরি দেখেন মিশন সংশ্লিষ্টরা। ধাক্কা লাগানো সফল হলেও গ্রহাণু গতিপথ বদলেছে কিনা সেটি বুঝতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বিজ্ঞানীদের। তবে পরীক্ষার আপাতত সফলতাকে উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মনে করেন তারা। নাসার বিজ্ঞানী ড. লোরি গ্লেজ বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখলাম, এটা এমন এক অধ্যায় যেখানে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুকে ঠেকাতে সক্ষম আমরা।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডাইমরফোসের মতো আকারের কোনো গ্রহাণু পৃথিবীকে আঘাত করলে সেটার প্রভাব হবে একটি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের চেয়েও বহুগুণ বেশি।