খামারিকে পিটিয়ে চাঁদা নিল ছাত্রলীগ নেতার ভাতিজা

নারায়ণগঞ্জে গরুর খামারিকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল হকের ভাতিজা আনিসুল হক অন্তর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। জামাল হোসেন (৪৫) নামে ওই খামারির দাবি, গত সোমবার দুপুরে তাকে ফতুল্লার ইসরাফিল রোড এলাকায় নিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে টানা ৪০ মিনিট এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে চাঁদার টাকা হাতে পেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি।

এদিকে নির্যাতনের ফলে ব্যবসায়ী জামাল হোসেনের শরীরে তৈরি হওয়া আঘাতের চিহ্নের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর আনিসুল হক অন্তর ও তার সহযোগীদের বিচার দাবি করছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জামাল হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি ফতুল্লার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এনায়েতনগর এলাকার বাসিন্দা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে কৃষি ব্যাংকের ফতুল্লা শাখায় যান। তখন অপরিচিত একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল করে তাকে ফতুল্লা বাজার লাগোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল হকের ভাতিজা আনিসুল হক অন্তরসহ আরও ৫-৬ জনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তারা তাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে লালপুর এলাকার ইসরাফিল রোডের হরিস চৌধুরীর গার্মেন্টসের পাশে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মোবাইল ফোনে কল করে তার স্ত্রী ইয়ানূরকে আরও ৫০ হাজার টাকা আনতে বলে। সেই টাকা আনতে দেরি হওয়ায় হাত-পা ও মুখ বেঁধে মোটা লোহার পাইপ দিয়ে টানা ৪০ মিনিট ধরে তাকে পেটানো হয়। নির্যাতনের এই দৃশ্য পাশের গার্মেন্টসের কর্মীরা দেখেছে। কিন্তু কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার স্ত্রী টাকা নিয়ে এলে সেই টাকা নিয়ে নির্যাতনকারীরা দ্রুত উক্ত স্থান ত্যাগ করে।

এ প্রসঙ্গে জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। চিকিৎসার পরে জ্ঞান ফিরলে আমার স্ত্রী আমাকে জানায় যে, নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশকে জানালে আমার পা কেটে ফেলবে, জানে মেরে ফেলে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে নির্যাতনকারীরা। আমাকে যে স্থানে নির্যাতন করা হয়েছে সে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে, যা দেখলেই নির্যাতনের সত্যতা মিলবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাতিজা (আনিসুল হক অন্তর) আর আমরা এক বাসায় থাকি না। এ ঘটনা (ব্যবসায়ীকে নির্যাতন) সম্পর্কে জানা নেই।’

থানায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাদীকে ফোন করে ঘটনাস্থলে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছে। আমরা তাকে অভয় দিয়েছি যে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’