ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসার পথে মঙ্গলবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয় ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। তবে এই হামলাকে ছাত্রদলের অন্তর্কলহ বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগ। সরকার সমর্থিত সংগঠনটির নেতারা বলছেন, শান্ত ক্যাম্পাসকে কেউ অশান্ত করতে চাইলে তারা তাদের প্রতিহত করবেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতারা জানিয়েছেন, তারা হামলা উপেক্ষা করে আবারও ক্যাম্পাসে আসবেন। দেশের এ দুই ছাত্র সংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানের ফলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংঘর্ষের পরদিন গতকাল বুধবার ক্যাম্পাসে ক্লাস পরীক্ষা স্বাভাবিক ছিল। প্রতিদিনের মতো মধুর ক্যান্টিন ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখা যায়। এদিন ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে আসেননি।
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল মারমুখী অবস্থানে দেখেছি। আমার তো আজকে ক্যাম্পাসে আসতেই ভয় লাগছিল। আমরা শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ চাই। কোনো মারামারি চাই না!
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা রহমান বলেন, ঘনঘন এ দুই সংগঠনের সংঘর্ষ আমাদের আতঙ্কিত করে তুলছে। আমরা সব সময় শঙ্কার মধ্যে আছি। ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হোক এটা আমরা চাই না। এদিকে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেলের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ফুল ও মিষ্টি নিয়ে ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। ছাত্রলীগ ফুল ও মিষ্টির বিপরীতে রড-লাঠি দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ছাত্রদল জুলুমের ভয় পায় না। আমরা আবারও ক্যাম্পাসে যাব, কারণ ক্যাম্পাসটা তো আমারও। সব কিছুর আগে আমার পরিচয় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমরা তিন দিন আগে ভিসি স্যারের থেকে সময় নিয়েছি। তিনি আমাদের কোনো ধরনের ঝামেলা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। এমন কি হামলার ৫ মিনিট আগেও আমাদের প্রক্টরের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে বলেন। তিনি বলেছিলেন, ছাত্রলীগ তাদের হামলা করবে না। কিন্তু আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের ডেকে এনে ছাত্রলীগ দিয়ে মার খাইয়েছে।
তবে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের দাবি তারা কারও ওপর হামলা করেননি। ছাত্রদল নিজেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ সংঘাতের রাজনীতি করে না। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শিক্ষার পরিবেশ যারা নষ্ট করবে ছাত্রলীগ তাদের প্রতিহত করবে।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, তারা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসার কথা ছিল। কিন্তু পরে তারা আসেনি। কেন তারা আসল না এটা তো আমি জানি না।
প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, হামলার বিষয়টি শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব।
গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।