আইনের মধ্যে থেকেই র্যাব কাজ করে বলে দাবি করেছেন র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘র্যাব আইনের সীমা অতিক্রম করে না। আমাদের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কেন দাঁড়াব। যেখানে প্রয়োজন কেবল সেখানেই শক্তি প্রয়োগ করা হয়। মাঝে মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে, দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ মহাপরিদর্শকের (্আইজিপি) দায়িত্ব নিতে যাওয়ার আগে গতকাল বুধবার সকালে কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। র্যাবের বর্তমান আভিযানিক কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধজ্ঞার বিষয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেন।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গত ডিসেম্বরে র্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক পুলিশের বিদায়ী আইজিপি বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও সেই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে।
গত আড়াই বছরে র্যাবে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করেছেন জানিয়ে বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, কাজ করতে গিয়ে র্যাব বাধা হয়ে দাঁড়ালে অপরাধীরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। এতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। সেক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। ম্যাজিস্ট্রেট আসেন। কেউ নিহত হলে অভিজ্ঞ ময়নাতদন্তকারী লাশের ময়নাতদন্ত করেন।
পরিস্থিতি অনুযায়ী র্যাব ব্যবস্থা নিয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা লোক দৌড় দিল, ধাক্কা দিল, তাকে গুলি করে দিতে হবে?’
র্যাবপ্রধান বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব চ্যালেঞ্জিং, যে কারণে আমার অনেক সহকর্মী চাকরি পর্যন্ত হারায়। আমি বিশ্বাস করি, আগামীতেও র্যাবের প্রতিটি সদস্য সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল র্যাবের নয়, কেবল বাংলাদেশেরও নয়; বিশ্বজুড়েই এ যুদ্ধ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের কারণে কারাগারে যেসব আসামি, তার বেশিরভাগই মাদকের। প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পর যেখানেই মাদক, সেখানেই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু র্যাব নয়, সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই ধরছে।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমনে পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের যে ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে সে বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করে। বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করা হয়। কারও বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে জানাবেন। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ার কমে গেছে, এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব রয়েছে কি না জানতে চাইলে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, যেখানে প্রয়োজন হয়, বাহিনী আক্রান্ত হলে সেখানে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। মাদক-অস্ত্র উদ্ধারে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির আলোকে ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন, র্যাবের অপারেশন বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়া ও র্যাব-২-এর অধিনায়ক আবু নাঈম তালাত প্রমুখ।
জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার র্যাব সদর দপ্তরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হবে। শুক্রবার তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির দায়িত্ব নেবেন। একই দিন র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অপারেশন) এম খুরশীদ হোসেন।