প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে কন্টেইনার বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বিএম কন্টেইনার ডিপো। অগ্নি নিরাপত্তায় বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ফায়ার সিস্টেম। ডিপো কর্মকর্তারা বলছেন, আগামীতে সেবা ও মানে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মডেল ডিপো হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
গত ৪ জুন রাতে সীতাকুন্ডে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো বিএম কন্টেইনার ডিপো লিমিটেডে আগুন ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান অর্ধশত মানুষ। বিধ্বস্ত হয়ে যায় ডিপোর বিশাল অবকাঠামো। বন্ধ হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ এই বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোর কার্যক্রম।
বিএম কন্টেইনার ডিপোর নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মইনুল আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী তিন বছরের একটি ভিশন নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। এই ভিশন বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা, টিমওয়ার্ক, কাস্টমার ভেল্যু, বিশ্বাসযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর পুরো ডিপোকে নিরাপত্তার চাদরে ডেকে রাখার উদ্যোগ হিসেবে পরিচালনা টিমে পরিবর্তন, কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, ফায়ার ফাইটিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১২০ জন কর্মচারীকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অগ্নিনির্বাপণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন প্রদানের পাশাপাশি নতুন করে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ডিপোর নির্বাহী পরিচালক।
ডিপো এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নতুন করে দুটি দ্বিতল শেড তৈরি করা হচ্ছে সেখানে। এর মধ্যে একটি শেড বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। পাশের অন্য শেডটি দুর্ঘটনার পর অক্ষত থাকলেও সেটিরও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ডেঞ্জারার্স গুডসের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ১২ হাজার বর্গফুটের বিশেষ শেড। ভোগ্যপণ্য রাখার জন্যও তৈরি করা হচ্ছে পৃথক শেড। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে তিন লাখ গ্যালন রিজার্ভ পানির ট্যাংক বসানো হচ্ছে। চালু হচ্ছে তিনটি ফায়ার পাম্পের সমন্বয়ে ফায়ার সিস্টেম।
ডিপো কর্মকর্তারা জানান, নির্মাণাধীন ফায়ার ফোম সিস্টেমটি কোথাও আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত দিবে। সীমানা প্রাচীরের নিরাপত্তায় বসানো হচ্ছে লাইন ক্রসিং ডিটেকশন সিস্টেম। কেউ সীমানা প্রাচীর পার হতে চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পৌঁছে যাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। এছাড়া কন্টেইনার ও কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কন্টেইনার কার্গো কোথায় আছে এই সিস্টেমের মাধ্যমে তা সহজে শনাক্ত করা যাবে। ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে ‘ফোম ফায়ার সিস্টেম’ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৯ মিনিটে ২ লাখ ৮৬ হাজার বর্গফুটের পুরো শেড ফোম করা যাবে।
আন্তর্জাতিক কন্টেইনার শিপিং সংস্থা এইচ এন্ড এম ও মার্স্ক লাইনের শীর্ষস্থানীয় বেশ কজন কর্মকর্তা বিএম ডিপো পরিদর্শনে যান। তারা ডিপোর আধুনিকায়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তারা ডিপোর সার্বিক কার্যক্রমের চিত্র দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীতাকু- এলাকায় ২৪ একর জায়গার ওপর চলছে বিএম কন্টেইনার ডিপোর কার্যক্রম। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিতে ডাচ নাগরিক বার্ট প্রঙ্ক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের শিল্প গ্রুপ স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। ২০২১ সালে ডিপোটিতে মোট ১ লাখ ২২ হাজার টিইইউস (টুয়েন্টি ফিট ইক্যুইভেলেন্ট ইউনিটস) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার ৬০ হাজার টিইইউএস, আমদানি পণ্যবাহী ২২ হাজার টিইইউএস এবং খালি কন্টেইনারের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার টিইইউস।