ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এর মাধ্যমে মহাদেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইউরোপীয় বাজারে বৈশি^ক গড় পোশাক আমদানি বেড়েছে ২৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। সেখানে শীর্ষ পোশাক আমদানির উৎস হলো চীন। উল্লিখিত সময়ে চীন থেকে ইউরোপের পোশাক আমদানি বেড়েছে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। সে সময়ে পোশাক রপ্তানিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ছিল বাংলাদেশের, ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি করেছে ১১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের।
অপরদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম পোশাকের উৎস তুরস্ক থেকে পোশাক আমদানি ২০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে ইউরোপ তুরস্ক থেকে ১০ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পোশাক আমদানি করেছে।
একই সময়ে ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ পোশাক আমদানির উৎস যেমন কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে আমদানি যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ, ৩২ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ হারে বেড়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ^ব্যাপী নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। এর মধ্যেও আমরা আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবৃদ্ধিটা ভালোভাবে ধরে রাখতে পেরেছি।’ তবে আগামী তিন-চার মাস সেখানে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি মনে করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহার এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে গেছে। সে কারণে এখন সেখানকার মানুষ পোশাকের ব্যয় কমাচ্ছে। তবে ডিসেম্বরের পর আবার সেখানে পোশাকের চাহিদা বাড়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।