বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াটলির আমন্ত্রণে জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতরা এ অভিমত জানিয়েছেন। বৈঠক শেষে রাতে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দেশ রূপান্তরকে এ কথা বলেন।
বৈঠকে আলোচনার বিষয় তুলে ধরে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় এসেছে বিএনপি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। আমরা বলেছি জাপা এ ধরনের সরকারে বিশ্বাস করে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে চাইলে দলীয় সরকারও পারে। এটা আন্তরিকতার প্রশ্ন। ইইউ রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন, আমাদের নির্বাচন আমাদেরই করতে হবে। তারা করবে না। যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। তারা চায় বাংলাদেশে একটা গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক।’
চার্লস হোয়াটলির রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে জাপা চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরের সঙ্গে এ বৈঠক হয়।
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘ইইউ রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে এ বৈঠক হয়েছে। পরে গিয়ে দেখি সদস্য রাষ্ট্রের সব রাষ্ট্রদূত এসেছেন। এ বৈঠক জাপার জন্য খুবই সম্মানের। বৈঠকে আমরা আরও বলেছি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় পার্টি। এরপরই জাপার অবস্থান। আমরা যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে আমরা চলমান সরকার পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনব। যেমন এখানে এক ব্যক্তির শাসন। যিনি প্রধানমন্ত্রী, তিনিই সংসদ নেতা। উনি নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান। উনি সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া যায় না। আমরা ক্ষমতায় এলে আমরা এসব বিষয়ে পরিবর্তন আনব। এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আছে।’
এ ব্যাপারে জাপার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হোয়াটলির আমন্ত্রণে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেন জিএম কাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, জাপা চেয়ারম্যানের বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা মাসরুর মওলা। প্রাতরাশ বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, ফ্রান্স রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।