ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে দাঙ্গা ও পদদলিত হয়ে নিহত ১২৫ জনের মধ্যে ৩২ জনই শিশু। নিহতদের মধ্যে মাত্র তিন বছর বয়সী শিশুও আছে। ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে ঘটা এই ঘটনাকে বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ স্টেডিয়াম বিপর্যয়গুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাপে আছে ইন্দোনেশিয়া।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বলেছে, এই ঘটনাটি ‘সবার জন্য একটি অন্ধকার দিন’। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল কর্র্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার একটি প্রতিবেদনও চেয়েছে সংস্থাটি।
নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর ফিল রবার্টসন গতকাল সোমবার বলেছেন, ‘এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী সবাইকেই তাদের পদ বা অবস্থান নির্বিশেষে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদপত্র জাকার্তা পোস্ট বলছে, দর্শকে ঠাসা মাঠে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও পদদলনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। এ ঘটনায় ১৮ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
রয়টার্স বলছে, সহিংসতা এবং গু-ামি দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে রাজধানী জাকার্তার মতো জায়গায় এটি বেশ সাধারণ। কিন্তু জাভাতে একটি ছোট শহরে শনিবারের ওই বিপর্যয় আসলে পুরো সমস্যাকেই সামনে নিয়ে এনেছে।
গত শনিবার রাতে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার মালাং অঞ্চলের কানজুরুহান স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল ক্লাব আরেমা এফসি ও পার্সেবায়া সুরাবায়ার খেলা শেষে দাঙ্গা ও পদদলনে ১২৫ জন নিহত হয়।